আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:০৪, ৩১ জুলাই ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ড সেউটায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। স্পেনের শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক একটি রায়ের পর এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে, যেখানে বলা হয়েছিল যে সেউটা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গোটা ঘটনাটিকে একটি ‘আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বেআইনিভাবে প্রবেশ করা সমস্ত অভিবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন।
সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্পেন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেউটা ও মেলিলা অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিবাসী স্রোত সেউটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান, যা শহরটির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে।
তবে এর মধ্যেই ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় বা কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন এবং বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫০ জন হারে মানুষ সেউটা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
এই গণ-অভিবাসন সংকট ইউরোপজুড়ে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অপরাধ চক্রগুলো আদালতের রায়কে ভুলভাবে অপব্যবহার করে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছে মাদ্রিদ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা এই পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
ইতালির পক্ষ থেকে স্পেনের সাথে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা বলা হলেও মাদ্রিদ এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। বর্তমানে মরক্কো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে স্পেন।
সূত্র: বিবিসি