ঢাকা, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১২ ফাল্গুন ১৪৩২, ০৭ রমজান ১৪৪৭

নগদে বিনিয়োগ করতে চায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০:২৪, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নগদে বিনিয়োগ করতে চায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান

ছবি :সংগৃহীত

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নগদে বিনিয়োগ করতে দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আগ্রহী বলে জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি একটি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
 
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
 
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর তাকে জানিয়েছেন, সরকার যদি নগদকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
 
তিনি বলেন, গভর্নর জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নগদের বিষয়ে চূড়ান্ত নীতি এখনো নির্ধারিত হয়নি। যদি বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মতো এটিকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই বিনিয়োগের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
 
‎‎নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই আলোচনা চলছিল। সেই ধারাবাহিকতায় একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হয়ে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্যারিস্টার আরমান। এর আগে বিনিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিলেন তিনি।
 
আরমান বলেন, আমি একজন পেশাদার আইনজীবী। এর আগেও ডেল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও উবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য কাজ করছি এবং আইনি সহায়তা দেব। বিনিয়োগকারীরা মূলত বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং ও এমএফএস খাতে আগ্রহী।
 
‎ব্যারিস্টার আরমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই তারা বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজছিলেন। নগদে বিনিয়োগ লাভজনক হবে কি না, তা জানতে একটি পূর্ণাঙ্গ অডিট করার আগ্রহের কথাও গভর্নরকে জানানো হয়েছে।
 
‎সংসদ সদস্য হয়েও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা স্বার্থের সংঘাত কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতি করি জনগণের সেবার জন্য, এখানে কোনো আয় নেই। পেশাগত জীবনে আইন চর্চা করি পরিবার পরিচালনার জন্য। ঐতিহাসিকভাবেই সংসদ সদস্যরা পেশাগত কাজ করে আসছেন। এতে কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই।
 
 ‎জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে নগদ। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নগদকে নিয়ম ভেঙে নানা অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
 
‎‎ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নগদের আগের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে উচ্চ আদালত সেই সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করলে নগদের দায়িত্ব নেয় ডাক অধিদপ্তর।
 
‎অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নগদের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়।
 
‎‎মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের ‘ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট’ হিসাবে ইস্যুকৃত ই-মানির বিপরীতে ১০১ কোটি টাকার বেশি রিয়েল মানির ঘাটতি পাওয়া যায়। পাশাপাশি ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি ঘাটতিসহ গুরুতর আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

আরও পড়ুন