ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

২৬ পৌষ ১৪৩২, ২১ রজব ১৪৪৭

মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে ব্যাপক গোলাগুলি, বিজিবির সতর্কতা

প্র্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮:০৭, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্তের ভেতরে ব্যাপক গোলাগুলি, বিজিবির সতর্কতা

ছবি :সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনায় সীমান্তের বাসিন্দারা আতঙ্কে থাকলেও বিজিবির পক্ষ থেকে তাদের সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার হোয়াইক্যং উত্তরপাড়া সীমান্তে এই গোলাগুলি শুরু হয়, যা থেমে থেমে দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

উখিয়াস্থ ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে, যা এপারে শোনা যাচ্ছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে শুরু করে থেমে থেমে দুপুর পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। হয়তো তাদের অভ্যন্তরে কোনো ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে এই গোলাগুলি। তবে আমরা স্থানীয়দের সীমান্তে না যেতে এবং সাবধানে চলাফেরা করার জন্য সচেতন করছি। তারপরও সীমান্তের অনেক বাসিন্দা শোনেন না।’
 
এদিকে, আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে ওই এলাকায় নদীতে মাছ শিকারের সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আলমগীর (৩১) নামে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
 
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আজও সকাল থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।’

আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম জানান, বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর মো. আলমগীর ও আরেক জেলে মো. আকবর নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকার বিলাইচ্ছর দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান। নৌকায় অবস্থান করে নদীতে জাল ফেলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে দেখা যায়, তার বাম হাত থেকে রক্ত ঝরছে এবং একটি গুলি বাম হাত ভেদ করে বের হয়ে গেছে। সঙ্গে থাকা অন্য জেলেদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় প্রথমে আলমগীরকে উখিয়া কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
 
উখিয়াস্থ ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে নাফ নদীতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তবে বৃহস্পতিবার আর শুক্রবারের ঘটনা ভিন্ন। তারপরও সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। নাফ নদীতে জেলেদের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু জেলে সেখানে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।’
 
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।

আরও পড়ুন