আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৩১, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রতিবেশী মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সামরিক হামলার ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি মেক্সিকোর মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দেন। ট্রাম্পের দাবি, মেক্সিকো এখন সেদেশের সরকার নয় বরং শক্তিশালী মাদক কার্টেলগুলো চালাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। খবর গালফ নিউজের।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রশাসন ইতিমধ্যে জলপথে মাদক পাচারের ৯৭ শতাংশ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন সময় এসেছে মেক্সিকোর ভেতরে ঢুকে স্থলভাগে কার্টেলগুলোর মূল ঘাঁটিতে আঘাত হানার। তবে এই একতরফা হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেক্সিকোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো হামলা বরদাস্ত করা হবে না। দুই দেশের মধ্যে মাদকবিরোধী যৌথ চুক্তির অস্তিত্ব থাকলেও ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অবস্থানে সেই কূটনৈতিক সমঝোতা এখন খাদের কিনারায়।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদক দমনে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন অভিযানে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মাদক পাচারকারী বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে আটকের ঘটনায় চীন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও ট্রাম্প তা বুক ফুলিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কোনো তথাকথিত আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করেন না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেক্সিকোর ভেতরে মার্কিন স্থল হামলার এই ঘোষণা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি নয়, বরং পুরো উত্তর আমেরিকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ঝুঁকিতে ফেলবে। শেইনবাউম যেখানে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছেন, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি বিশেষ বাহিনী মোতায়েন শুরু করেছে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। ট্রাম্পের এই ‘একলা চলো’ নীতি লাতিন থেকে উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত এক ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ