ঢাকা, রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

২৮ পৌষ ১৪৩২, ২২ রজব ১৪৪৭

বাপা-বেন জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের সমাপনী

প্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২২:১৭, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

বাপা-বেন জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের সমাপনী

ছবি :সংগৃহীত

দু’দিনের বাপা-বেন জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ।

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও রাজধানীকে বসবাসযোগ্য করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য খণ্ডকালীন ও সীমিত প্রকল্প থেকে সরে এসে কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় ব্যবস্থাপনাসহ সকল খাতে সমন্বিত ও পদ্ধতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

আজ শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, যেসকল পরিকল্পনা পরিবেশের ভালো করার জন্যও করা হয় সেগুলোও পরিবেশের উপর ক্ষতি করে। যে কোন প্রকল্প করতে গেলেই পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। সেক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা সহনীয় থাকে এমন প্রকল্প গ্রহন করা উচিত। পরিবেশের ছাড়প্রত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো বেশী কঠোর হওয়া দরকার। প্রকল্প গ্রহণ করার সময় নীতিনিদ্ধারকদের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। 

প্রকল্প গ্রহণ করার ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবেশবাদী ও স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্তকরণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাপাকে এক্ষেত্রে অগ্রনীভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পাবলিক প্লেসে ধুমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি লেড পয়জনিং বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বাপার প্রতি আহ্বান জানান।

আজ সম্মেলনের সকালের অধিবেশনে নগর উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে বলেন ড. নজরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহু সমস্যা পুঞ্জিভূত হলেও পরিবেশ নিয়ে কোনো সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়নি। ফলে পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যাবলী যথাযথ পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন করা যায়নি। পরিবেশের সমস্যা সমাধানে সাফল্যের জন্য কেবল নীতির সংস্কার যথেষ্ট নয়, সাথে পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহেরও সংস্কার প্রয়োজন। এই সম্মেলনের সুপারিশের আলোকে নীতি সংস্কারের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে আগামী সরকার উদ্যোগী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক এ কে এম সাকিল নেওয়াজ, বিশিষ্ট নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব, জ্বালানী বিশেষজ্ঞ মো. শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, কৃষিবিদ মো. শাহ কামাল খান, বাপার কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির প্রমূখ।

অবসরপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা এ কে এম সাকিল নেওয়াজ বলেন, ঢাকা শহর ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আছে। ভূমিকম্প হবেই, আজ হোক বা কাল হোক, ছোট হোক বা বড় হোক। তাই আমাদের ভূমিকম্পের দুর্যোগ মোকাবেলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন আমরা নীতি মানিনা, বিধি-বিধান মানি না, জায়গা আছে ভবন নির্মাণ করি। ভবনের যে নকশা অনুমোদন করায় তার ৫০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয় না। ঢাকা শহরের ৭৬ শতাংশ রাস্তা সরু। যেখানে গাড়ি প্রবেশের সুযোগ নাই। ভূমিকম্পে বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে আছে গ্যাস ও বৈদ্যুতিক লাইন। উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনা নিয়েই ভূমিকম্পের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। 

পরিকল্পিত নগরায়ন, শহরের বিকেন্দ্রীকরণ ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা রং জীবনমান উন্নয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। স্থপতি ইকবাল হাবিব । তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা শহর। রাজধানীকে বসবাসযোগ্য করতে নতুন উন্নয়নের চেয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যমান কাঠামোর পুনর্গঠন করতে হবে। পরিবেশবান্ধব, সুপরিকল্পিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

দ্বিতীয় দিনে ৭টি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ‘বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ড. মাহবুব হোসেন। ‘দুর্যোগ, আবহাওয়া পরিবর্তন ও অন্যান্য বিষয়ক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক মো. নিয়ামুল নাসের। ‘নগরায়ন ও ভৌত পরিকল্পনা এবং যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা’ বিষয়ক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান। জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য’ বিষয়ক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম সেলিম। 

সম্মেলন শেষে সম্মেলনের বিষয় বস্তুর উপর একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বেনের প্রতিষ্ঠাতা ও বাপা’র সহ-সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন দেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংস্কার কমিশিন করা হলেও আজপর্ন্ত পরিবেশ রক্ষায় কোন সংস্কার কমিশন করা হয়নি। যা পরিবেশবাদীদের মনে হতাশার সৃষ্টি করেছে।

উদ্বোধনী ও সমাপনী অধিবেশন ছাড়া সম্মেলনের অধিবেশনের সংখ্যা ছিল ১৯টি; তারমধ্যে সম্মিলিত অধিবেশন ছিল ৩টি এবং সমান্তরাল অধিবেশন ছিল ১৬টি। সম্মেলনে বিদেশ থেকে যোগদানকারী জন্য একটি অনলাইন/ভার্চুয়াল অধিবেশনও আয়োজিত হয়। সবমিলিয়ে অধিবেশনে মোট ১২০টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। 
 

আরও পড়ুন