ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

২৬ পৌষ ১৪৩২, ২০ রজব ১৪৪৭

ভারতের ওপর ৫০০ ভাগ শুল্ক আরোপের বিলে ট্রাম্পের অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭:৪৩, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতের ওপর ৫০০ ভাগ শুল্ক আরোপের বিলে ট্রাম্পের অনুমোদন

.

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল কিনছে ভারত। এ জন্য ভারতের ওপর শতকরা ৫০০ ভাগ শুল্ক আরোপের বিলে অনুমোদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিলটি কংগ্রেসে তোলা হবে। সেখানে পাস হলেই ভারতের বাণিজ্যের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে পরিস্থিতি। এই শুল্ক কার্যকর হলে একশত রুপির পণ্যের দাম দাঁড়াবে ৬০০ রুপি। এর মধ্যে একশ রুপি মূল দাম। তার ওপর ৫০০ রুপি শুল্ক। দুই মিলে ৬০০ রুপি। 

অনলাইন এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলীয় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা ভারত, চীন ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশকে শাস্তি দিতে ব্যবহার করা হতে পারে এই বিল। একথা জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি প্রতিরক্ষা নীতিতে কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত। গ্রাহাম-ব্লুমেনথাল প্রস্তাবিত এই নিষেধাজ্ঞা বিলটি পাস হলে, যেসব দেশ জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা ইউরেনিয়াম কিনছে এবং ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে রসদ জোগাচ্ছে’, তাদের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেবে। এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের লক্ষ্য হলো, মস্কোর অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করা।

  ওদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতা চুক্তি করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। লিন্ডসে গ্রাহাম জানান, বুধবার হোয়াইট হাউসে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেই বৈঠকেই প্রেসিডেন্ট এই বিলের প্রতি সমর্থন জানান। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপি’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রাহাম এক বিবৃতিতে বলেন, বিলটি সঠিক সময়েই আসছে। কারণ ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে অথচ পুতিন শুধু কথার কথা বলছেন এবং নিরপরাধ মানুষ হত্যা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

গ্রাহাম আরও জানান, আগামী সপ্তাহেই এই বিলের ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। পাস হওয়ার বিষয়টি কতটা সফল হবে তা স্পষ্ট নয়। আগামী সপ্তাহে সিনেট একটি সীমিত সরকারি অর্থায়ন প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে, যা বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে বিবেচনাধীন। 

গ্রাহাম ও ডেমোক্রেট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের যৌথভাবে প্রণীত এই বিলটি প্রশাসনকে রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্য কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দিচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রধান অর্থায়ন উৎসগুলো বন্ধ করে দেয়া। এর আগে হোয়াইট হাউস এই নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে কিছু সংশোধন ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য আরও নমনীয়তা চেয়েছিল। তবে সেসব পরিবর্তন আদৌ যুক্ত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। এই আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রধান দূত হিসেবে কাজ করছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।র

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন