ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

২৫ পৌষ ১৪৩২, ১৯ রজব ১৪৪৭

বাংলাদেশকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান দিতে চায় পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:২১, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান দিতে চায় পাকিস্তান

ছবি :সংগৃহীত

বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বরাতে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অস্ত্র রফতানির পরিসর বাড়ানো এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবেই এই আলোচনা হয়েছে।
  
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজেদের বিমান বাহিনীর সাফল্যকে কাজে লাগাতে চাইছে। ওই সংঘর্ষ ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ’ লড়াইগুলোর একটি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর) জানিয়েছে, পাক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান যৌথভাবে চীন ও পাকিস্তানে উন্নত বহুমুখী যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
 
পাকিস্তান বাংলাদেশকে দ্রুতগতিতে ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানায় রয়টার্স। এর পাশাপাশি, সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহায়তাও দেয়া হবে।
 
এই আলোচনা দক্ষিণ এশীয় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে উল্লেখ করে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে, যার পর থেকেই ইসলামাবাদ ও ঢাকার ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে (বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার চিফ মার্শালের) পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টি পুনরায় গুরুত্ব পেয়েছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।
 
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে চার বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তিতেও এই বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
 
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, দেশটির অস্ত্র শিল্পের সাফল্য পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন