আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:০৭, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
.
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশকে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে হলে কোনো বাংলাদেশি ই১/ই২ ভিসার জন্য উপযুক্ত হলে অতিরিক্ত কয়েক হাজার ডলার জমা দিতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে এই তালিকায় নাম আছে ৩৮টি দেশের। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে ৬ই জানুয়ারি।
এতে বলা হয়েছে, ওইসব দেশের পাসপোর্টধারী কোনো নাগরিক বা ব্যক্তি যদি ই১/ই২ ভিসার জন্য অন্য সব দিক থেকে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন, তবে তাকে ৫,০০০ / ১০,০০০ / ১৫,০০০ ডলার পরিমাণ ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। কাকে কোন পরিমাণ অর্থ জমা দিতে হবে তা নির্ধারণ করা হবে ভিসার জন্য সাক্ষাৎকারের সময়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিয়মের মধ্যে যেসব দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে তার মধ্যে আছে- আলজেরিয়া (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), অ্যাঙ্গোলা (২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬), অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা (২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬), বাংলাদেশ (২১ জানুয়ারি ২০২৬), বেনিন (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), ভুটান (১লা জানুয়ারি, ২০২৬), বোতসোয়ানা (১লা জানুয়ারি, ২০২৬), বুরুন্ডি (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), কাবো ভার্দে (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক (১লা জানুয়ারি, ২০২৬), কোট দিভোয়ার (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), কিউবা (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), জিবুতি (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), ডমিনিকা (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), ফিজি (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), গ্যাবন (২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬), গাম্বিয়া (১১ই অক্টোবর, ২০২৫), গিনি (১লা জানুয়ারি, ২০২৬), গিনি-বিসাউ (১লা জানুয়ারি, ২০২৬), কিরগিজস্তান (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), মালাবি (২০শে আগস্ট, ২০২৫), মৌরিতানিয়া (২৩শে অক্টোবর, ২০২৫), নামিবিয়া (১লা জানুয়ারি, ২০২৬), নেপাল (২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬), নাইজেরিয়া (২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬), সাও টোমে ও প্রিন্সিপে (২৩শে অক্টোবর, ২০২৫), সেনেগাল (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), তাজিকিস্তান (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), তানজানিয়া (২৩ শে অক্টোবর, ২০২৫), টোগো (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), টোঙ্গা (২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬),
তুর্কমেনিস্তান (১লা জানুয়ারি, ২০২৬), তুভালু (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), উগান্ডা (২১শে জানুয়ারি, ২০২৬), ভানুয়াতু (২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬), ভেনেজুয়েলা (২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬), জাম্বিয়া (২০ শে আগস্ট, ২০২৫), জিম্বাবুয়ে (২১ শে জানুয়ারি, ২০২৬)। উল্লেখ্য দেশগুলোর নামের পাশে তারিখ ও সাল হলো এই ভিসা বন্ড কার্যকর হওয়ার সময়।
ভিসা বন্ডের শর্তাবলি নির্ধারিত হয়েছে আইএনএ ধারা ২২১(ম)(৩) এবং পাইলট প্রোগ্রাম প্রবর্তনকারী ‘টেম্পোরারি ফাইনাল রুল’ (টিএফআর) অনুযায়ী। ভিসা ওভারস্টে হার নির্ধারণ করা হয় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এন্ট্রি/এক্সিট ওভারস্টে রিপোর্টে উল্লেখিত ই১/ই২ ভিসার ওভারস্টে হারের ভিত্তিতে।
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে একইসঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ফর্ম আই-৩৫২ জমা দিতে হবে এবং অর্থপ্রদানের শর্তাবলিতে সম্মতি জানাতে হবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের পে ডট গভ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। এই শর্ত আবেদনকারীর ভিসা জমাদানের স্থান নির্বিশেষে প্রযোজ্য। আবেদনকারীদের ফর্ম আই-৩৫২ শুধু তখনই জমা দিতে হবে, যখন কোনো কনস্যুলার কর্মকর্তা সরাসরি সেই নির্দেশ দেন। আবেদনকারীকে পে ডট গভ-এর অফিসিয়াল লিঙ্ক পাঠানো হবে। তারা কোনো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট ব্যবহার করবেন না। সরকারি সিস্টেমের বাইরে প্রদত্ত অর্থের দায় সরকার নেবে না।
বন্ড জমা দেয়া মানেই ভিসা ইস্যু হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কনস্যুলার নির্দেশনা ছাড়া যদি কেউ অর্থ প্রদান করেন, তা ফেরত দেয়া হবে না। বন্ডের শর্ত হিসেবে, যেসব ভিসাধারী ভিসা বন্ড জমা দিয়েছেন, তাদের অবশ্যই নিম্নোক্ত নির্ধারিত প্রবেশ দ্বার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে। তা না করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বাতিল হতে পারে অথবা প্রস্থানের রেকর্ড নাও থাকতে পারে।
এগুলো হলো-
বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বিওএস)- ২০ আগস্ট ২০২৫
জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) - ২০ আগস্ট ২০২৫
ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইএডি) - ২০ আগস্ট ২০২৫
ভিসা বন্ডের শর্ত পূরণ হলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ফর্ম আই-৩৫২ এবং ট্রাভেল ডট স্টেট ডট গভ ওয়েবসাইটে বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং অর্থ ফেরত দেয়া হবে-
ভিসাধারীর অনুমোদিত মেয়াদের আগেই বা মেয়াদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করা রেকর্ড হলে, অথবা
ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, অথবা
পোর্টে ভিসাধারীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নাকচ করা হলে।
ভিসা বন্ড ভঙ্গের সম্ভাবনা
যেসব ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, সেগুলো ইউএসসিআইএস-এ পাঠানো হবে যাচাইয়ের জন্য। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে- হোমল্যান্ড সিকিউরিটির রেকর্ডে দেখা যায় যে ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদের পরে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। ভিসাধারী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং দেশ ত্যাগ করেননি। ভিসাধারী নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন বা করেছেন, যেমন আশ্রয় দাবি করা।