ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬:৫৮, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে নয়াপল্টনে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় অংশ নিতে কার্যালয়ের সামনে আসেন দলের নেতাকর্মীরা।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। সেখান থেকে মরদেহ নেয়া হয় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে।
জানা গেছে, জানাজা নামাজ শেষে মরদেহ তার বাসভবনের উদ্দেশে নেয়া হচ্ছে। সেখান থেকে পরে কাওরানবাজারে বাদ আছর দ্বিতীয় জানাজার শেষে আজিমপুর কবরস্থানে মরদেহ দাফন করার কথা রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের লেকচারার ডা. আয়েশা পারভিন মুসাব্বিরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।
এর আগে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হায়দার আলী।
প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পেটের ডান পাশে আধা ইঞ্চি পরিমাণ ছিদ্র। ডান হাতের কনুইয়ের পেছনে একটা ছিদ্র। বাম পায়ের হাঁটুতে জখম ছিল। আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে।
মুসাব্বিরের বাবার নাম খলিলুর রহমান। বাসা ১৬/সি, গার্ডেন ভিউ, পশ্চিম কারওয়ানবাজার। তার ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে।
মর্গে নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেটি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। সিসিটিভি ফুটেজ যেহেতু আছে, কাজেই আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেগুলো দেখে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবে। আর এ রকম ঘটনা তো ঘটতেছেই। আগেও ঘটেছে, এখনও ঘটছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে। সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আমার মতো আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এদিকে মুসাব্বির হত্যার ঘটনায় সকালে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টায় বাড়ি ফেরার পথে কারওয়ানবাজারের স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
সিসিটিভিতে দেখা গেছে হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্য। এতে দেখা যায়, স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে বস্তা নিয়ে বসে ছিল দুই দুর্বৃত্ত, মুসাব্বিরকে দেখামাত্র বস্তা থেকে পিস্তল বের করে পেছন থেকে গুলি করে তারা। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। আবার উঠে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন মুসাব্বির। এ সময় মুসাব্বিরের ফোন পড়ে যায়। শুটাররা সেই ফোন নিয়েই পালিয়ে যায়।
এছাড়া মুসাব্বিরের সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান মাসুদ নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।