ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:২৫, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে দেশের গত ১৭ বছরের প্রকৃত ইতিহাস পুরোপুরি পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করায় তারেক রহমান ঘটনাবলির বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করতে পারেননি এবং তিনি মূলত আশপাশের মানুষ ও সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা কিছু গণমাধ্যমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বিএনপির আয়োজনে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মাহমুদুর রহমান।
তিনি বলেন, “তারেক রহমান ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। এই সময়ে দেশে কী ঘটেছে, সেটা সরাসরি দেখার সুযোগ তাঁর হয়নি। তাঁকে যাঁরা যা বলেছেন, কিংবা এখন যাঁরা মিডিয়ায় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, তাঁদের কাছ থেকে যা শুনছেন-সেটাকেই তিনি পুরো সময়ের ইতিহাস বলে ধরে নিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস এভাবে সংক্ষিপ্ত করা যায় না।”
অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সভায় প্রায়ই দেখা যায় বক্তারা বক্তব্য দিয়ে দ্রুত চলে যান এবং অন্যদের কথা শোনেন না, যা তিনি অসৌজন্যমূলক বলে মনে করেন। সে কারণে তিনি এদিন দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে কয়েকজন নির্যাতিত সাংবাদিক ও সম্পাদকদের নাম উল্লেখ করেই কথা শেষ করেন।
তিনি প্রথমেই মরহুম রুহুল আমিন গাজীর নাম উল্লেখ করে বলেন, ভুয়া মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসা না পেয়ে তিনি মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হন। একইভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও এক সময় বিনা চিকিৎসায় কারাগারে রাখা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব ঘটনায় গণমাধ্যমের প্রভাবশালী অংশ নীরব ছিল বলেও অভিযোগ করেন মাহমুদুর রহমান।
এরপর তিনি সংগ্রামের প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদের কথা তুলে ধরে বলেন, তাকে অফিস থেকে জোর করে ধরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যুর সময়ও তিনি পাশে থাকতে পারেননি। এ ঘটনার বিরুদ্ধেও গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরা মুখ খোলেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিক শফিক রহমানের কারাবন্দি জীবনের বর্ণনা দিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রায় ৮০ বছর বয়সে শফিক রহমানকে অমানবিক পরিবেশে থাকতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কনক সরোয়ারের অপরাধ ছিল তারেক রহমানের একটি বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করা। এ কারণে তাকে প্রায় এক বছর কারাগারে থাকতে হয়। শুধু তাই নয়, তার বোনকেও মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় আটক রাখা হয়েছিল।
মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেখ মুজিবুর রহমান সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং স্বাধীনতার পরও যুদ্ধের প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করেননি। দলীয় ও বিদেশি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করেই তিনি ইতিহাস মূল্যায়ন করেছিলেন, যার ফলাফল নেতিবাচক হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এমন কোনো অনুষ্ঠানে তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলে তিনি দেশের গণমাধ্যমের পাঁচ দশকের ইতিহাস তুলে ধরতে প্রস্তুত বলেও জানান।
অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক, সাংবাদিক ও মিডিয়া নির্বাহীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন, বার্তা সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।