ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩:১৯, ২ নভেম্বর ২০২৬
ই-রিকশার ফাইল ছবি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ই-রিকশা নিবন্ধনের জন্য ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির রিকশা (ই-রিকশা) চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট হ্রাস এবং নিরাপদ নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) নগর ভবনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগরবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই আমরা নতুন বিধিমালা অনুযায়ী এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। তবে শুধু ফরম সংগ্রহ করলেই নিবন্ধন পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ, বুয়েটের কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে কেবল যোগ্য বাহনগুলোকেই সনদ দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সব ই-রিকশাকে নিয়মের আওতায় এনে সড়কে অননুমোদিত ও অনুপযুক্ত যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নির্ধারিত ফি জমাদান সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে:
◦ জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সত্যায়িত অনুলিপি
◦ সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি
◦ ফি জমার মূল রসিদ
◦ নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট
যাচাই-বাছাই ও বুয়েটের কারিগরি ছাড়পত্র:
আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা এবং কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
আবেদনের সীমাবদ্ধতা: একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেয়া হবে।
জোনভিত্তিক চলাচল ও সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: ডিএসসিসি এলাকাকে মোট চারটি জোনে ভাগ করে রুট নির্ধারণ ও ই-রিক্সার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে।
নতুন এই বিধিমালার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রমে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।