কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩:৫৫, ২ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃৃহীত
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে সুন্দলপুর সাউথ-১ নামে আরেকটি নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। কূপের প্রায় তিন হাজার ২৮৯ মিটার গভীরে থাকা দুটি জোনে মজুত রয়েছে ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস।
সোমবার (২ নভেম্বর) উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপে অগ্নি প্রজ্বালনের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কূপটি থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা যায়, সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের এই সময়ে নোয়াখালীর সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপে শিখা জ্বলে ওঠা এনে দিয়েছে বড় স্বস্তি। জেলাটিতে এটি ষষ্ঠ গ্যাসকূপ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই অর্জনে এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংকট দূর করে তবেই যেন বাকি অংশ জাতীয় গ্রিডে দেয়া হয়।
বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, সরকারি ও বাপেক্সের যৌথ অর্থায়নে গত ৮ জুলাই খনন কাজ শুরু করে রিগ ‘বিজয়-১০’। লক্ষ্যমাত্রা তিন হাজার ৩০০ মিটার হলেও প্রায় চার মাসের পরিশ্রমে তিন হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতায় পৌঁছেই জোড়া জোনে নিশ্চিত হয় কাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি।
এ বিষয়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রামপুর ইউনিয়নের সুন্দলপুর সাউথ ওয়ান-এ একটা গ্যাসকূপের সন্ধান পাওয়া গেছে। নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। আমরা আশা করি, প্রাথমিকভাবে যে ধারণাটা পেয়েছি যে, প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এখান থেকে উত্তোলন করা যাবে। যেটা জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং এটা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৫ দিন কূপটিতে চলবে ড্রিল স্টেম টেস্ট বা ডিএসটি পরীক্ষা। এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে অন্য কোনো খনিজ উপাদান আছে কি না। জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষায় সুন্দলপুর সাউথ-১ এখন দেশের অর্থনীতি ও নোয়াখালীর মানুষের জন্য এক নতুন আশীর্বাদ।’
উল্লেখ্য, নোয়াখালী জেলায় মোট ৬টি গ্যাসকূপ রয়েছে, যার মধ্যে সুন্দলপুর সাউথ-১ নতুন এক মাইলফলক। বাপেক্স জানাচ্ছে, কূপটির মোট মজুদের পরিমাণ ৯৭ দশমিক ৬৯ বিসিএফ বা বিলিয়ন ঘনফুট। আগামী ২০ বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে এখান থেকে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য পাঁচ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।