কামরুল হাসান কাজল, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩:৫২, ১৫ আগস্ট ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
৪র্থ দিনের মত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। কোন কোন প্রতিষ্টানে শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন, আবার কোন কোন কোম্পানিতে শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।এসব সমস্যার কারণে শ্রমিকদের ছাটাই ও করা হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হচ্ছে শিল্পমালিকদের। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে লোকসান। উদ্যোক্তাদের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার উৎপাদন ও রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক অর্ডার বাতিল হতে শুরু করেছে।
স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন বলেন, কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি শূন্য ছিল। তিনি বলেন, মেশিন, বিদ্যুৎ—সবকিছু বন্ধ। বেশি সময় এভাবে বন্ধ থাকলে মেশিনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারখানার একটি লাইনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ১ লাখ ২ হাজার ৫৯৭ ঘনমিটার এবং অপর লাইনে ৮৬ হাজার ২৮ ঘনমিটার। অথচ, প্রায় ৪দিন দিন ধরে কোনো গ্যাসই পাওয়া যাচ্ছে না।এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার বলেন, প্রতি মাসে আমাদের প্রায় ১০ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার গ্যাস প্রয়োজন। সে হিসাবে দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ ঘনমিটার। তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে ৬০ শতাংশ গ্যাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুপুর ১২টায় হঠাৎ সরবরাহ ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এ অবস্থায় মেশিন চালানো অত্যন্ত কঠিন। রোব বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করলে মেশিনও বিকল হয়ে যেতে পারে।
আবুল বাশার আরও বলেন, প্রতিনিয়ত ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। মালিকপক্ষ কতদিন লোকসান গুনবে? এভাবে চলতে থাকলে একসময় মানুষ চাকরি হারাবে।তিনি জানান, ইতোমধ্যে তাদের রপ্তানি ১৩ শতাংশ কমে গেছে। বিভিন্ন কোম্পানির অর্ডার বাতিল হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। সুতা থেকে কাপড় এবং কাপড় রপ্তানি না হলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।