মোঃ দিলদার হোসেন,পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩:৫০, ১৩ আগস্ট ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের পূর্ব কড়িয়া গ্রামে প্রায় ৩৫ বছরের পুরোনো একটি সুইচগেট এখন আশীর্বাদের বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া সুইচগেটটির দুই পাশের মাটি কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ধসে গেছে। কোথাও কোথাও ভেঙে পড়েছে গেটের অংশও। এতে একদিকে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশনে, অন্যদিকে গেটের পাশের একটি বসতবাড়ি রয়েছে সরাসরি ধসের ঝুঁকিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সুইচগেটটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এর আশপাশের মাটি ধসে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের মাছমারী বিল, পশ্চিম কড়িয়া, রামনগর ও ধরঞ্জী ইউনিয়নের পাড়ইল মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৯৯২ সালে উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় হতে পানি ও সেচ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পূর্ব কড়িয়া গ্রামের নদীরকুল মোস্তাকের বাড়ির পাশে সুইচগেটটি নির্মাণ করা হয়। এই গেট দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি প্রবাহিত হয়ে পাশের চিরি নদীতে গিয়ে পড়ে।
পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি সুইচগেটটির ওপর দিয়ে স্থানীয় প্রায় ৫০টি পরিবারের কৃষিজমির ফসল আনা-নেওয়ার পথ হিসেবেও এটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে সুইচগেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধু পানি নিষ্কাশন নয়, কৃষকদের স্বাভাবিক চলাচল ও ফসল পরিবহন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। শুধু তাই নয় সুইচগেটের দক্ষিণ পাশে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের নির্মিত ব্রিজের পাঠাতনের নিচ দিয়ে সুরুঙ্গ হয়ে পানির ¯্রােত প্রবাহিত হওয়াই সেটিও ঝুঁকিতে পড়েছে।
সম্প্রতি কয়েক দিনের অতিবর্ষণে পানির প্রবল ¯্রােতে সুইচগেটের দুই পাশের মাটি ব্যাপকভাবে ধসে যায়। গেটের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানির স্রোত অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট অংশও ধসে পড়ে পুরো স্থাপনাটি ভেঙে যেতে পারে। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সুইচগেটের একেবারে পাশে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বসতবাড়ি ঘিরে। বাড়ির পাশের মাটি ধসে যাওয়ায় ঘরের নিচের অংশও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ফলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন-রাত কাটাচ্ছেন পরিবারটি।
বাড়ির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, আমার বাড়ির পাশ দিয়েই সুইচগেটটি। পানির স্রোতে গেটের দুই পাশের মাটি ভেঙে ও দেবে গেছে। আমার বাড়ি এখন হুমকির মুখে। বউ-বাচ্চাদের নিয়ে ভয়ে রাত কাটাই। কখন যে বাড়িটিও ধসে পড়ে, সেই আতঙ্কে আছি।
তার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সারাদিন সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। কখন বাড়ি ধসে পড়ে, সেই ভয়েই দিন কাটছে। দ্রুত সুইচগেটটি সংস্কার করে তাদের বসতবাড়ি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, এই সুইচগেট দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠের পানি নদীতে নামে। আবার আমাদের ফসল আনা-নেওয়ার জন্যও এটি একমাত্র পথ। গেটটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুতত সংস্কার না করলে শুধু একটি বাড়ি নয়, এলাকার অনেক মানুষের চলাচল ও কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুরোনো সুইচগেটটি স্থায়ীভাবে সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে থাকা বসতবাড়িটি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান মামূনুর রশিদ মিল্টনকে সুইচগেটের বর্তমান অবস্থার তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যবর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।