ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, ২৮ সফর ১৪৪৮

শেরপুরে মৃগী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে চরমধুয়া গ্রাম

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর

প্রকাশ: ২৩:৫৫, ১৩ আগস্ট ২০২৬

শেরপুরে মৃগী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে চরমধুয়া গ্রাম

ছবি:বাংলার চোখ

শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামটি  মৃগী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীটি শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিশেছে। চরমধুয়া গ্রামে এসে নদীটির ভাঙন জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ভাঙনে ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নদীর গ্রাসে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বাড়িঘর। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মসজিদ,মাদ্রাসা,কবরস্থান,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

মৃগী নদীর দীর্ঘমেয়াদী ভাঙনের ফলে চরমধুয়া গ্রামের বহু পরিবার সহায়-সম্বল হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আবার কেউ জীবিকার সন্ধানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি জমিয়েছেন।

জানা যায়, এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ধান, পাট, ভুট্টা ও সরিষার আবাদ হয়। এসব কৃষিপণ্য স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে ঘন ঘন পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙনের কারণে গত কয়েক বছর যাবত আগের মতো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস এই গ্রামে। এখানে সরকারি কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ-সুবিধা পৌঁছায়নি। শুধু নদীভাঙন নয়, এলাকাটিতে চলাচলের জন্য কোনো সড়কও নেই। পাকা সড়ক থেকে প্রায় তিন মাইল পর্যন্ত যে মাটির সড়কটি ছিল, সেটিও এখন আর নেই। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সড়কটির বেশিরভাগ অংশ। বর্তমানে এই এলাকার কৃষিপণ্য পরিবহনের একমাত্র বাহন ঘোড়ার গাড়ি। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তারা দ্রুত নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্র্নিমাণ এবং ঝুঁকিতে থাকা স্থাপনাগুলো রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চরমধুয়া নামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাফিকুল ইসলাম, আলম আলী ও  সায়েদ মিয়া বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মৃগী নদীর তীব্র ভাঙনে আমাদের গ্রামের মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীভাঙনের ফলে দু’পায়ে চলার মতো একটি সড়কও আমাদের নেই। আরেক ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমার পাঁচ থেকে ছয় কাঠা জমিসহ ঘরবাড়ি  ও প্রায় ৫ লাখ টাকার বাঁশঝাড় নদীতে বিলীন হয়েছে।

এ বিষয়ে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "অতিবৃষ্টি এবং ঢলের কারণে নকলা উপজেলার মৃগী নদীর চরমধুয়া নামাপাড়া ও দড়িপাড়া এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে মাননীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আমরা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।"

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী  জানান, "মৃগী নদীর চরমধুয়া এলাকার ৮৫০ মিটার ভাঙনকবলিত স্থান আমরা পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে শেরপুর জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা হবে।"
 

আরও পড়ুন