এস এম রেজাউল করিম,ঝালকাঠি থেকে
প্রকাশ: ২০:৫৭, ২ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন শহীদ ওসমান হাদীর স্মরণে তার নিজ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওসমান হাদী ছিলেন একজন বিপ্লবী- আর বিপ্লবীদের কখনো মৃত্যু হয় না। তিনি আরও বলেন, হাদীর হত্যাকারীরা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে এ মাসের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে বলেও জানান তিনি। সরকার এ বিষয়ে খুব সিরিয়াস। প্বার্সবর্তী দেশে যারা পালিয়ে গেছে তাদের গ্রেফতারে প্রচেষ্টা চলছে।
আততায়ীর গুলিতে নিহত শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর স্মরণে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার লঞ্চঘাটের নামকরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
শুক্রবার বিকাল চারটায় নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই নামকরণের উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন।
অনুষ্ঠানে শরীফ ওসমান হাদীর বোন মাসুম আক্তার বলেন, 'ওসমান হাদী ইনসাফ কায়েম করতে জীবন দিয়েছেন। তাকে আপনাদের বাচিয়ে রাখতে হলে তার আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা চাই ওসমান হাদী বেচে থাকুক সবার মাঝে। কোন প্রাপ্তি নয়, ইনসাফ চাই। ভাই হত্যার বিচার চাই। সরকার যদি ভাই হত্যার বিচার করতে না পারে তবে তারা চলে যাক। তাদের থাকার কোন অধিকার নেই। ওসমান হাদীর মাথায় গুলির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব শেষ করে দিয়েছি, হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ওসমান বেচে থাকলে দেশে চাঁদাবাজি হতোনা। ওসমান দেশের নয় বিশ্বের মজলুমদের ওসমান হয়েছে। মধ্যবর্তী সরকার তাকে অনেক প্রলোভন দেখিয়েছে। তিনি ইনসাফের দেশ কায়েম করতে চেয়েছিলো। ভারতের আগ্রাসন বিরোধী কথা বলেছে। ভারত, আওয়ামীলীগ, বাম সংগঠনসহ দেশীয় বহু রাজনৈতিক এজেন্ট ওসমান হত্যা করতে কাজ করেঋে। এই মধ্যবর্তী সরকার আজকে বিপ্লবী সরকার হওয়ার কথা ছিলো। কেনো তারা হাসিনার দোষর চুপ্পুর হাতে শপথ পরেছে? আওয়ামী দোসররা এখনও সর্বত্র বিরাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, 'মির্জা ফখরুল ওসমানের নামই জানেনা! তিনি যদি বয়সের ভারে তার নাম না জানে, তবে তিনি কিভাবে এমপি নির্বাচন করবে? তাবে তাকে বাদ দেওয়া উচিত। আর যদি ইচ্ছে করে তিন এমনটা করেন যে ওসমান কে আর এমন'? তবে তাকে বাংলাদেশের জনগণ তাকে নামিয়ে দিবে'।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিননউদ্দিন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, শহীদ ওসমান হাদীর বোন মাসুমা আক্তার, ভগ্নিপতি আমির হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা দ্রুত হাদীর হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে জড়িত, তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা।
শহীদ ওসমান হাদীর নামে লঞ্চঘাটের নামকরণকে এলাকাবাসী শ্রদ্ধা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।