ঢাকা, শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

১৯ পৌষ ১৪৩২, ১৩ রজব ১৪৪৭

নকলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ

শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুর

প্রকাশ: ২২:৪৪, ২ জানুয়ারি ২০২৬

নকলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ

ছবি -বাংলার চোখ

চলতি মৌসুমে শেরপুরের নকলা উপজেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে ২৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ বেড়েছে। এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার নদ-নদীর চরাঞ্চল ও ছোট-বড় বিলপাড়ে যেদিকে দৃষ্টি যায়, দিগন্তজুড়ে শুধু সরিষার মাঠ নজরে পড়ে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। আর গত বছর এর আবাদ হয়েছিল ৫ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে। এবার  স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৯, বিনা সরিষা-১১ এবং স্থানীয় টরি-৭ জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আবাদ করা হয়েছে যথাক্রমে বারি সরিষা-১৪, টরি-৭ এবং বিনা-৯ জাতের সরিষা।

বানেশ্বরদী ইউনিয়নের কায়দা গ্রামের কৃষাণী মোছা. রাশিদা বেগম শান্তি জানান, তিনি ২০ শতাংশ জমিতে মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে সরিষা আবাদ করেছেন। সরিষা উঠানোর পরে ওই জমিতে বোরো ধান রোপণ করবেন। সরিষা আবাদে যা খরচ হয়েছে এবং যা খরচ হবে, তার দ্বিগুণ লাভ পাবেন বলে আশা করছেন ।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাগর চন্দ্র দে জানান, উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন, চরঅষ্টধর, টালকী, পাঠাকাটা, বানেশ্বরদী, গৌড়দ্বার, নকলা ও উরফা ইউনিয়নসহ পৌরসভায় সরিষার আবাদ করা হয়েছে। তবে চন্দ্রকোনা, চরঅষ্টধর, পাঠাকাটা, বানেশ্বরদী ও উরফা ইউনিয়নে আবাদ বেশি হয়েছে। সরিষা চাষের উপযোগী সব জমিকে আবাদের আওতায় এনে জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা ও কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের পরামর্শ সেবা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ৩ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ জানান, এবছর নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে ধান খেতে বিনা চাষে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এ আবাদ চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরবাছুরআলগী এলাকায় বেশি হয়েছে। নতুন এই প্রযুক্তিতে আমন ধান কাটার ৭ থেকে ১০ দিন আগে ধান ক্ষেতে প্রতি বিঘাতে এক কেজি করে সরিষা বীজ বপন করা হয়। ধান কাটার পরে সরিষাতে সামান্য সার এবং প্রয়োজনে হালকা সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এতে একদিকে জমি চাষ ও বীজ বপনের আগে জমিতে সার বাবদ খরচ লাগে না, অন্যদিকে জমিতে সঠিক সময়েই বোরো ধান রোপণ করা যায়।

আরও পড়ুন