প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:৪৯, ২ জানুয়ারি ২০২৬
যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে রহস্যজনকভাবে অগ্নিকাণ্ড । ছবি :সংগৃহীত
যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে রহস্যজনকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে পুড়ে গেছে দুইশ বছরের পুরনো ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে আগুন লাগে। এক ঘণ্টার আগুনে পুড়ে যায় ব্রিটিশ আমলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র।
যশোর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, আগুনের সংবাদ পেয়ে রাত সোয়া নয়টার দিকে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরনো ভবনের গেটে তালা দেওয়া ছিল, আর ভেতরে জ্বলছিল আগুন। সেখানে কোনো স্টাফ ছিলেন না। তালা ভেঙে তারা ভেতরে ঢোকেন। এরপর এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনের দুটি রুমে রেখে দেওয়া পুরনো কাগজপত্র, দলিলপত্র পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে।
যশোর রেজিস্ট্রি অফিসে একসময়ের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন জানিয়েছেন, ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণ করা ছিল পুরনো এই ভবনে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ভবনের দরজা কেউ খুলতেন না। আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে তিনি সেখানে যান এবং ভেতরে গিয়ে দেখতে পান, পুরোনো প্রায় সব কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবশিষ্ট কিছু কাগজপত্র আগুন নেভানোর সময় পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
আগুন লাগার সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে যান যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, রাত ৯টার পর পুরনো ভবনে আগুন লাগার সংবাদ পান। ভবনের গেটে তালা মারা থাকে। সেখানে হীরা নামে একজন নৈশপ্রহরীও থাকে। কিন্তু আগুন লাগার সময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে আগুন লাগা দেখে ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া হয়।
ওই এলাকার কয়েকজন দোকানি জানিয়েছেন, আগুন লাগার ঘটনাটি রহস্যজনক। ওই ভবনের মধ্যে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে যে আগুন লাগবে এর কোনো কারণ নেই। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে ভবনের ভেতরে কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসন অনুসন্ধান করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।