চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:৫৮, ১ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি -বাংলার চোখ
টানা এক সপ্তাহের ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকদের বোরো ধানের বীজতলা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পলিথিন ও ছত্রাক নাশক ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে চারা রক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলে কৃষকের কষ্টে তৈরি চারা সাদা হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে জেলার কৃষকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। তারা বলছেন বোরো বীজতলা বাঁচানো না গেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এর বড় একটি অংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। আর তাই গত সাত দিন ধরে শীতের তীব্রতায় অনেক বীজতলা সাদা ও হলদেটে হয়ে গেছে।
কৃষকরা বলছেন, এখন প্রচন্ড শীত। সন্ধ্যার পর থেকে কুয়াশা ও শিশির পড়ছে অনেক বেশি। আর আকাশে তো সূর্যের দেখা মেলা ভার। কুয়াশা ও শিশিরে বোরো চারার গোড়া পচে যাচ্ছে। দ্রæত আবহাওয়ার উন্নতি না হলে আবাদে বড় সংকট তৈরি হবে। আর বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হলে বাইরে থেকে চড়া দামে চারা কিনতে হলে বোরো আবাদে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি অফিসারদের দেয়া পরামর্শে বীজতলায় পলিথিন ও দামি ছত্রাক নাশক ওষুধ ব্যবহার করেও চারার উন্নতি হচ্ছে না। চারা সাদা হয়ে যাচ্ছে। এতে করে চরম উদ্বেগে আছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, কুয়াশা ও অতিরিক্ত শীতের কারণে চারাগাছে কোল্ড ইনজুরি বা শীতকালীন ঝুঁকি বাড়ছে। এতে কৃষকরা চিন্তিত আবাদ নিয়ে। তবে সন্ধ্যায় পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা ও পানি সরিয়ে ফেলা এবং সকালে সালফার জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। এখন বছরের শেষ বিধায় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন কৃষি কর্মকর্তা।