প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২:১৯, ১৯ জুলাই ২০২৬
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি :সংগৃহীত
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইন অনুযায়ী দেশে ফিরে বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণই একমাত্র পথ। নিজেকে নিরাপরাধ প্রমাণ করার জন্যে তার একটি অবলিগেশন রয়ে গেছে সেটি হচ্ছে আদালতের সামনে উপস্থিত হওয়া। বিচারের মুখোমুখি হওয়া। আইনী কাঠামোর মধ্যে তার ন্যায় বিচার কীভাবে নিশ্চিত করা যায় আমরা সেটি করবো।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকালে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিলো। তিনি সেই সুযোগ নেননি। তিনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসমি। কিন্তু তিনি পলাতক থাকা অবস্থায় তার মামলা সম্পর্কে প্রতিনিয়ত স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। তিনি প্রতিদিন প্রমাণ করেছেন তার মামলা সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। উনার যে সাজা হয়েছে তার আপিলের একটি নিধারিত মেয়াদ আছে। সেই মেয়াদ পার হওয়ার পরে ডিলে কনডোলেশনের জন্যে কী গ্রাউন্ড নেবেন জানিনা।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনা বলছেন তিনি বাংলাদেশ থেকে যাননি। এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। যে কোনো সময়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন। দিন তারিখ দিচ্ছেন ডিসেম্বর। আপিলের নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে বিলম্ব মওকুফের আবেদন তিনি কীভাবে উপস্থাপন করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।
সারাদেশে জুলাই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কীত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মোট ৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে একটি হাসিনা ওয়াজেদের। তাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমরা কোনো শর্টকাট পথে যাইনি। আমরা চাই শেখ হাসিনা ফিরুক। আইন সম্মতভাবে তার দণ্ড কার্যকর করার জন্যে যে বিধান আছে সেই বিধানের পথ ধরে হেটে যেতে চাই। এর বাইরে কোনো পথ আমাদের জানা নেই।
মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যা মামলার আসামি মেজর মোজাফফরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে বিচারের মুখোমুখি করবো। ইনশাআল্লাহ সেটি আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায় বিচার, আইনের শাসন, মানুষের মুখে হাসি ধরে রাখা, উন্নয়ন, সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে যারা আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিচার বিভাগ। এই বিচার বিভাগের পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত উন্নয়নে সারাদেশের ৮০ হাজার আইনজীবীকে কমপোলসারি ট্রেনিংয়ের আওতায় আনার জন্যে বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মনোয়ার হোসেন খান, মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. মুতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা বিএনপি আহবায়ক আলি আহমেদসহ আরও অনেকে।