ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯:৪৪, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। যেহেতু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়েছে, সে কারণে তারা এগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য। গণভোট সংবিধান থেকে কোনো অংশে কম নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের একটি বড় অংশ এখনো সংবিধান সংস্কার সভার শপথ নেয়নি। এটি জনরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি একথা বলেন। ‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ ও ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’-এর যৌথ উদ্যোগে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের সংবিধানের উল্লেখ আছে সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। এই যে গণভোট, এটার মানে হলো জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত নিল, কোনটা ভালো। যারা বলে এই গণভোট গ্রহণযোগ্য নয় (সেটা ঠিক নয়), বরং গণভোটে যেটা পাস হয়েছে; সেটা সংবিধানে যা আছে তার থেকে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং জনগণের সরাসরি মতামত এটা। সরকারের বৈধতাও এই গণভোট।
সুজন সম্পাদক বলেন, যে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর এই দেশের জনগণ, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো দাঁড়িয়ে আছে; গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ (২০২৫)’ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্যাপারে নিজেদের রায় পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যা’-তে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। জনগণের রায়ই সর্বোচ্চ এবং সকল সাংবিধানিক ক্ষমতার উৎস।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একজন সংসদ সদস্য বলেছেন সংসদ সার্বভৌম। কিন্তু আসলে তা নয়, যেখানে লিখিত সংবিধান আছে সেখানে সংসদ সার্বভৌম নয়। সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ। তারা যেটার ব্যাপারে রায় দিয়েছে সেটা পালন করা বাধ্যতামূলক।
নাগরিক সংলাপটি পরিচালনা করেন ভয়েস ফর্ম রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর। এ সময় রাষ্ট্রসংস্কার নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, জুলাই আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা ও তাদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ফাহিম মাশরুর বলেন, জুলাই কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না। জুলাই আন্দোলন ও এত রক্তপাত শুধু একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার গঠন করার উদ্দেশ্যে নয়। সংস্কার নিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক জুলাই সনদ। জনগণের এই আকাক্ষা অস্বীকার করলে বা গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে সরকার বা রাজনৌতিক দল নিজেরাই রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব শিগগিরই সরকার এই ব্যাপারে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে।