ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬:৫৪, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
অমর একুশে বইমেলা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই মেলার দ্বার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বইমেলাকে কেবল একটি উৎসব নয়, বরং শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের প্রধান কেন্দ্র বা ‘সূতিকাগার’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবারের বইমেলা। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ খোলা থাকবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকেই দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে রাত সাড়ে ৮টার পর মেলায় নতুন করে প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে।
এ বছর মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় সাজানো হয়েছে ‘লিটল ম্যাগাজিন চত্বর’, যেখানে ৮৭টি স্টল স্থান পেয়েছে। শিশুদের জন্য বরাবরের মতোই থাকছে বিশেষ আয়োজন। শিশু চত্বরে মোট ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য থাকবে বিশেষ ‘শিশুপ্রহর’।
মেলার নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রতিদিন বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার। এরপর বিকেল ৪টা থেকে শুরু হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বইমেলাকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মেলা প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই মেলা তরুণ প্রজন্মকে ইন্টারনেটের আসক্তি কাটিয়ে বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনতে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।