ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭:৪৫, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেলগুলোর জয়কে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বলে অভিহিত করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, কিছু দলের নেতাকর্মীরা বলে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন নাকি কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে না জাতীয় নির্বাচনে। এই সন্তুষ্টি নিয়ে তারা ঘুমায়। আমরা এগুলো নিয়ে বেশি একটা মন্তব্য করবো না, তারা যদি এতেই খুশি হয়, তো আলহামদুলিল্লাহ। আমরা ক্যাম্পাসগুলোতে দেখতে পেয়েছি, প্রতিটি ক্যাম্পাসে আজ মহাজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবর্তনের হাওয়া প্রতিটি ক্যাম্পাসে লেগেছে।
আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাগপা-ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যে ক্যাম্পাসগুলোতে হয়েছিল, মনে রাখবেন, এই ক্যাম্পাসগুলো হচ্ছে বাংলাদেশের আদি এবং প্রসিদ্ধ সমৃদ্ধ মেধাবীদের আতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত। এই ক্যাম্পাসে যে ছাত্ররা পড়ে, এরা ঘুমায় থাকে না। এই ক্যাম্পাসের ছাত্ররাই বাংলাদেশের জুডিসিয়ারি, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিফেন্স ফোর্স, বাংলাদেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বুদ্ধিজীবী মহল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি অঙ্গন মুখর করে রাখে। সুতরাং এরপরও আপনারা যদি মনে করেন, ক্ষমতায় গিয়ে আবার পূর্বের রাজনীতি করতে থাকবেন তাহলে সময়ের অপেক্ষা করেন।
এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কাদের সঙ্গে মাসোহারা করে তিনি (তারেক রহমান) দেশে এসেছেন—তা নিয়ে মানুষ এখন প্রশ্ন করছে। জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির মতো রাজনৈতিক দল দিয়ে কিভাবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব? আমরা উদ্বিগ্ন। তারেক রহমান বলেছিলেন দেশে আসা তার একক সিদ্ধান্তের ওপর ওপর নির্ভর করে না। তাহলে কার ওপর নির্ভর করে? তার দেশে আসা তো কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভর করে না। ইন্টেরিম গভর্নমেন্টকে তারা থোড়াই কেয়ার করে।
শিবির সভাপতি বলেন, আমরা দেখেছি একটা দলের অন্তর্কোন্দলের মধ্য দিয়ে ২০০-র বেশি মানুষকে তারা পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। সেগুলোর বিচার হয় না। বিচারবহির্ভূত এ হত্যাকাণ্ডের কারণে আজকে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে মানুষ বড় অস্বস্তির মধ্যে আছে। চাঁদাবাজির এক মহা উৎসবে পরিণত হয়েছে দেশ।
তারেক রহমানের প্রোটোকল নিয়ে সাদ্দাম বলেন, একটা দলকে সন্তুষ্ট করা ছাড়া আর কোনো চিন্তাভাবনা সরকারের মধ্যে নেই। একটা দলের প্রধান দেশে আসছে, চারদিক থেকে প্রটোকল। হায় প্রটোকল! প্রধানমন্ত্রীরাও এমন প্রটোকল পায় না। চার হাজার সেনাসদস্য নেমে গিয়েছে। একটা দলের প্রধানকে সেনাবাহিনীর প্রটোকল দিচ্ছে হচ্ছে, কীসের এত ভয়?
হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন বাধা সৃষ্টি করতে চাওয়ার অভিযোগ তুলে শিবির সভাপতি বলেন, মানুষ এখন উন্মুখ হয়ে আছে একটা বড় পরিবর্তনের জন্য। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করার ক্ষেত্রে তারা বাধা সৃষ্টি করতে চায়। আমরা বলছি, জুলাইকে আইনি ভিত্তি দিতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে। সেটি হলে বাংলাদেশে আর দৈত্যদানব তৈরি হবে না। সংবিধান সংস্কার হবে। সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন হবে। সুতরাং ইচ্ছামত কেউ সংবিধান কাটাছেঁড়া করতে পারবে না।