ঢাকা, রোববার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৫ মাঘ ১৪৩২, ১৯ শা'বান ১৪৪৭

শেরপুরে ভোটের মাঠে শেষ সময়ের প্রচারে মুখর প্রার্থীরা

শাহরিয়ার মিল্টন শেরপুর

প্রকাশ: ০১:১৮, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শেরপুরে ভোটের মাঠে শেষ সময়ের প্রচারে মুখর প্রার্থীরা

ছবি:বাংলার চোখ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শেরপুরের সংসদীয় ৩ টি আসনের মধ্যে ২ টি আসনের প্রার্থীরা শেষ সময়ের প্রচারে মুখর হয়ে উঠেছে। এদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে এই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

শেরপুরের ২ টি আসনের নির্বাচনী এলাকার অলিগলি থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, হাট বাজার সব জায়গায় ঘুরে ফিরে আসছে ভোট প্রসঙ্গ। সকাল গড়াতেই প্রার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। এলাকার উন্নয়ন ও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তুলে ধরছেন নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার। মাইকিং স্লোগান ও ছোট ছোট পথসভায় সরব থাকছে নির্বাচনী এলাকা যা গভীর রাত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। এদিকে নিজেদের হারানো ২ টি আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। অন্যদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী নানা কার্যক্রমে সাধারণ ভোটারদের আস্থা কেড়ে নিয়ে ভোটের পাল্লা ভারি করছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা।

সংসদীয় আসন শেরপুর-১  ও  শেরপুর-২  আসনে মোট ভোটার ৮ লাখ ৯০ হাজার ৫২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার  ৪ লাখ ৪০ হাজার ২৫৮ জন ও নারী ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ২৫৬ জন। হিজরা ভোটার ৮ জন। ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ২৯৯ টি ।
ভোটাররা জানান, গণতন্ত্র বিকাশে এবং দেশের উন্নয়নে ভালো নির্বাচনের বিকল্প নেই। তারা আশাবাদী দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে এবার সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের নয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে যাবেন।

শেরপুর- ১ (শেরপুর সদর) : ১৪ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এই আসন । মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার  ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৭২ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন। হিজরা ভোটার ৮ জন। ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৪৫ টি ।

নির্বাচনে এই আসনে ৬ জন প্রার্থী লড়ছেন। এরা হলেন, সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংংকা (বিএনপি),রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (জামায়াত), মো. লিখন মিয়া (এনসিপি), মো. মাহমুদুল হক মনি (জাতীয় পার্টি), শফিকুল ইসলাম মাসুদ (স্বতন্ত্র) ও মো. ইলিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র)। তবে ভোটাররা জানান ভোটের মাঠে এবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও জামায়াত প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলামর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে ।

শেরপুর পৌরসভার ভোটার ওমর ফারুক বলেন, এই আসনে জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রচুর ভোট রয়েছে । তবে ভোটের মাঠে এবার এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগাভাগির সুযোগে লাভবান হতে পারেন জামায়াত প্রার্থী। স্থানীয় আরেক ভোটার মু. মনিরুজ্জামান বলেন, নারী ও তরুণ ভোটারদের ভোট যে প্রার্থী বেশি পাবেন তারই জয়ের পাল্লা ভারী হবে। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংংকা বলেন , দীর্ঘ সময় শেরপুর সদর আসনটি বিএনপি'র হাতছাড়া রয়েছে। এবার মানুষের মধ্যে ধানের শীষের জোয়ার তৈরি হয়েছে। যেখানে যাচ্ছি সেখানেই মানুষের মুখে ধানের শীষের কথা শুনতে পাচ্ছি। আমি শতভাগ আশাবাদী শেরপুরে ধানের  শীষ প্রতীক জয়ী হবে। নির্বাচিত হলে পিছিয়ে পড়া শেরপুরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগে উন্নত করে তুলতে চাই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর শেরপুর গড়ে তুলতে চাই।

বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি জনগণের দাবির মুখে। বর্তমানে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি এবং একটি গণজোয়ার আমার পক্ষে সৃষ্টি হয়েছে। আমি জনগণের প্রার্থী হিসেবে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আমরা চাই উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে এবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ যাকে চাইবে তাকে ভোট দিবে । যিনি নির্বাচিত হবেন আমরা তাকেই মেনে নেব এবং তার সঙ্গে কাজ করবো।  

জামায়াত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ন্যায়-ইসনাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে বর্তমানে একটি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচিত হলে নতুন শেরপুর গড়ার টার্গেটে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য,বেকারত্ব দূরীকরণ,মাদকমুক্তকরণ, নিরাপত্তার অগ্রগতি , অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে ।

শেরপুর- ২ (নকলা- নালিতাবাড়ী) : ২১ টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভা নিয়ে এই আসন। মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার  ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৬ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ  ২৪ হাজার ২৪৮ জন। ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৫৪ টি ।
নির্বাচনে এই আসনে ৪ জন প্রার্থী লড়ছেন। এরা হলেন, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী (বিএনপি), মু. গোলাম কিবরিয়ার (জামায়াত), মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ) ও মো. আব্দুল্লাহ (এবি পার্টি)। এবার ভোটের মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং জামায়াত প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক মু. গোলাম কিবরিয়ার মধ্যে  দ্বিমুখী লড়াই হবে জানান ভোটাররা।

ফাহিম চৌধুরীর বাবা মোহাম্মদ জাহেদ আলী চৌধুরী ছিলেন জোট সরকারের সময় জাতীয় সংসদের হুইপ । সর্বশেষ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন । এবারের নির্বাচনের হিসাব সম্পূর্ণই ভিন্ন। বিগত কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র যিনিই প্রার্থী হয়েছেন তারা সবাই ছিলেন নকলা উপজেলার বাসিন্দা। এবার নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্তান মু. গোলাম কিবরিয়া হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। নকলা উপজেলার সন্তান ফাহিম চৌধুরী হয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী। নালিতাবাড়ীতে ভোটের পরিমাণ নকলার চেয়ে বেশি । এছাড়াও তরুণ ভোটাররা এবার ফ্যাক্টর হিসেবে কাজে আসবে। অতীতের কর্মকাণ্ড,  তারুণ্য, প্রচারণার কৌশল আর ব্যক্তিত্বের কারণে যিনি ভোটারদের মনে বেশি সাড়া দিতে পারবেন, তিনিই হবেন বিজয়ী।

নকলা পৌরসভার ভোটার আব্দুর রহিম বলেন, আমরা উৎসব মুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই। মারামারি হানাহানি চাইনা । এবার আমরা প্রতীক দেখে ভোট দিবো না। সৎ-যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থীকে ভোট দিবো। যাকে দুর্দিনে কাছে পাবো তাকেই ভোট দিবো ।

বিএনপির প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী এলাকার যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই বেশ সাড়া পাচ্ছেন । সব জায়গায় তার বাবা মরহুম জাহেদ আলীর চৌধুরীর উন্নয়নের ছোয়া রয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি সেসব এলাকায় তিনি কাজ করবেন। বিজয়ের ব্যাপারেও তিনি শতভাগ আশাবাদী।

জামায়াত প্রার্থী মু.গোলাম কিবরিয়া ভিপি বলেন, বৈষম্যহীন উন্নয়নের ধারায় নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলাকে গড়তে চাই। আমি আশাবাদী এলাকার জনগণ ও তরুণ ভোটাররা পাশে থেকে আমাকে সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করবে ইনশাল্লাহ। নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজী থাকবে না এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এতোদিন ভোটাররা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে দেখেছে। এবার তারা নতুন কাউকে দেখতে চান। বিজয়ের ব্যাপারে তিনিও শতভাগ আশাবাদী বলে জানান।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন