ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮:২০, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
ঝালকাঠিতে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এই বিরোধের জের ধরে এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকাল ৫টা থেকে আটকৃত বিএনপি নেতা থানা হেফাজতে রয়েছেন।
থানা হেফাজতে থাকা ওআ নেতার নাম আনিসুজ্জামান চপল। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে ঝালকাঠি শহরের তিন ঘাটলা এলাকার বাসা থেকে আনিসুজ্জামান চপলকে ঝালকাঠি সদর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। থানার উপপরিদর্শক এসআই আসাদুল আল গালিব মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানান, বিএনপি নেতা থানা হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশের একটি সুত্র জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি রুজু হলে সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির ভেতরে দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। রবিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কীর্ত্তিপাশা বাজারে এই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদল নেতা আকাশ বেপারীসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর চপলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে ছাত্রদল ও যুবদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকেও তখন মারধর করা হয়।
এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মী মো. সবুজ বেপারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে আনিসুজ্জামান চপলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের আহ্বানে জুমা-পরবর্তী দোয়ার কর্মসূচি থাকলেও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন না থাকায় এই কর্মসূচি ঘিরে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ তৈরি হয়।
নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনার সূত্রপাত। অন্যদিকে আরেক পক্ষের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
ঝালকাঠি সদর থানার উপ পরিদর্শক আসাদুল আল গালিব নিশ্চিত করেছেন চপল থানা হেফাজতে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।