আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:১০, ৬ আগস্ট ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ইরান ও ওমান। তবে এই সমঝোতা হলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় খুলে যাবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গারিবাবাদি বলেন, তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনায় প্রণালিতে জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য প্রস্তাবিত রুট নিয়ে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
তার মতে, আলোচনায় নতুন নৌপথের পাশাপাশি ইরান ও ওমানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব, সামুদ্রিক চলাচল তদারকির জন্য একটি যৌথ সমন্বয় কেন্দ্র গঠন এবং জাহাজ থেকে তথ্য সংগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বদলাতে পারে কয়েক দশকের পুরনো নৌপথ
গারিবাবাদি জানান, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লারাক দ্বীপ সংলগ্ন অস্থায়ী নৌপথ এবং ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার কিছু রুট বন্ধ হয়ে যাবে।
তার পরিবর্তে নতুন প্রবেশ ও প্রস্থান করিডরের একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। এতে কয়েক দশক ধরে প্রচলিত সেই ব্যবস্থা বদলে যাবে, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ মূলত ওমানের জলসীমা ব্যবহার করত।
তিনি বলেন, নতুন রুট প্রাথমিকভাবে দুই থেকে চার মাস, কিংবা প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পৃথক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।
তবে গারিবাবাদি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই সমঝোতা নিজেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার অর্থ নয়।’ তিনি জানান, প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু পূর্বশর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এসব পূর্বশর্তের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন আবারও নৌ অবরোধ জোরদার করেছে, সামরিক অভিযান শুরু করেছে এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলার পরই তারা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করে।
গারিবাবাদি বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে হরমুজ পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে তেহরান। তবে শুধু সেটিই যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর নিশ্চয়তাও চায় ইরান।
‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং তিনি যুদ্ধের চেয়ে কূটনীতিকেই বেশি পছন্দ করেন। তার ভাষ্য, ‘আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না’।
বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, অন্যথায় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর হামলা চালাবেন।
তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে, তাহলে তিনি আবারও সামরিক হামলা শুরু করবেন।
ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনা সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বলেও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মিথ্যা। কোনো আলোচনা হয়নি।’
তবে গারিবাবাদি স্বীকার করেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিতে ফিরে আসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন দ্বিতীয় ধাপে এগোনো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান।