আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:০৪, ১১ আগস্ট ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পনে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চল। ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ধসে পড়া শত শত ভবনের নিচে আটকা পড়ে আছেন বহু মানুষ। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে প্রাণের স্পন্দন খোঁজার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জরুরি উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত চোকো অঞ্চলের ‘সান হোসে দেল পালমার’ শহরে ছিল এই ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে কালি ও পেরেইরা শহরে। কালিতে অন্তত ৩৫ জন ও পেরেইরাসহ রিসারালদা অঞ্চলে ৪০ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া চোকোতে ৯ জন, কালদাসে ২ জন এবং আন্তিওকিয়ায় ১ জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় কেবল ভ্যালে দেল কাউকা বিভাগেই সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কালির একটি হাসপাতালের একাধিক তলা ধসে পড়ায় ভবনের বাইরের ধুলোবালি ও ধ্বংসস্তূপ ছড়ানো রাস্তায় প্রায় ৬০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মানিজালেস শহরের একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের মিনারসহ প্রায় এক হাজার ৬০০টি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
সোমবার শপথ নেওয়া কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়োলা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কারফিউ জারি করার পাশাপাশি পুরো সামরিক ও পুলিশ বাহিনীকে উদ্ধার অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম চোকো অঞ্চলে উদ্ধারকারী দল, প্রকৌশলী ও ট্র্যাকার ডগ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, প্রায় ২১টি আফটারশক বা ভূকম্পনপরবর্তী কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সেবা দপ্তর।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, স্থানীয়দের সহায়তায় মানব শৃঙ্খল তৈরি করে ইট-কংক্রিট সরিয়ে দুই নারী ও দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা