আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:১৯, ৭ আগস্ট ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশও ভবিষ্যতে এ চুক্তিতে যোগ দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এরদোয়ান এ কথা বলেন।
তিনি জানান, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই চুক্তি সম্মিলিত প্রতিরোধ নীতিকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি তিন দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা আরও বাড়াবে।
এরদোয়ান বলেন, ‘এই চুক্তি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। আমাদের অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা কামনা করে এমন সব ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের অংশগ্রহণের জন্য এটি উন্মুক্ত।’
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং আঞ্চলিক মালিকানার নীতির ভিত্তিতে তুরস্ক সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাত ও সংকটের সমাধানের পক্ষে তার অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
এরদোয়ান জানান, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে তিনি শুক্রবার মক্কা সফর করেন। সেখানে সৌদি যুবরাজ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে।
এই সফর, ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এবং নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি পুরো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলনে’ সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সম্মেলন শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এ চুক্তি তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীরতর করা এবং অঞ্চল ও এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তির আওতায় বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষার সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তির একটি ধারায় বলা হয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক বা পাকিস্তানের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সে অনুযায়ী সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড