ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩:৪৮, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এর যৌথ উদ্যোগে আজ ৭ জানুয়ারি,বুধবার সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে আগামী ৯-১০ জানুয়ারি “বাংলাদেশের পরিবেশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়” বিষয়ক বাপা-বেন সম্মেলন ২০২৬ সম্পর্কে গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে অবহিত করণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি প্রদান উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বাপা’র সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির এর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বাপা’র সহ-সভাপতি, ড. নজরুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বেন এর বৈশ্বিক সমন্বয়কারী ও বাপা’র সহ-সভাপতি,
ড. মো. খালেকুজ্জামান, বাপা’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম. শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জমান মজুমদার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক যথাক্রমে সর্বজনাব মিহির বিশ্বাস,আমিনুর রসুল, ফরিদুল ইসলাম, ড. হালিম দাদ খান, হাসান ইউসুফ খান, হুমায়ুন কবির সুমন এবং নির্বাহী সদস্য সরদার হিরক রাজা, জাতীয় কমিটির সদস্য হাজী শেখ আনসার আলী, শাকিল কবির, মোনসেফা আক্তার তৃপ্তি, তিতলি নাজনিন প্রমূখ।
আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ৯-১০ জানুয়ারি, শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯:০০টা থেকে বিকেল ৫:৩০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি), খামারবাড়ী, ঢাকায় “পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়” বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্যসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
ড. নজরুল ইসলাম বলেন এই সরকারের আমলে অনেক সংস্কার কমিশন করা হয়েছে, কিন্তু পরিবেশ ইস্যুতে কোনো কমিশন হয়নি। তাই আমরা পরিবেশ সংস্কারের বিষয়টিও জুলাই সনদে অন্তর্ভূক্ত করাসহ রাজনৈতিক দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা জরুরি মনে করি। তিনি আরো বলেন দেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পিডিবিকে সংস্কার করতে হবে। পরিবেশের নীতির পরিবর্তন এর পাশাপাশি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সংস্কার করার।
সভাপতির বক্তব্যে মহিদুল হক খান বলেন, প্রতিটি দল-ই যেন পরিবেশ বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে স্ব-স্ব নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করে সেটিই আমাদের কাম্য। কারণ রাজনিক সদিচ্ছা ছাড়া দেশের পরিবেশ সুরক্ষিত হবে না। তিনি পরিবেশ ধ্বংসকারীকে ভোট প্রদানে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।
ড. খালেকুজ্জামান বলেন উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের পরিবেশ কেন হয়না? এইটার জন্য আমাদের আক্ষেপ হয়। মাত্র ১৪% ভাগ মানুষ এই দেশের পরিবেশ প্রাণ-প্রকৃতিসহ সকল সম্পদের মালিক হোক সেটি আমরা চাই না। এই ১৪% মানুষ দেশের উন্নয়নের নামে ব্যবসায়িক সার্থ হাসিল করছে।
ড শহীদুল ইসলাম বলেন এবছরের প্রতিপাদ্যের সাথে আগের বছরের প্রতিপাদ্যের কিছু ভিন্নতা আছে। পরিবেশ সংস্কারের উপর ৭টি বিষয়ে বিভিন্ন এক্সপার্টদের সেশন অনুষ্ঠিত হবে। ১১৭ জন বিজ্ঞানীর পেপার সেশনে উপস্থাপন করা হবে। সেম্মেলনে পানি, নগরায়ন, জ্বালানি, কৃষি, দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন, পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য, উপকূল,বন্দর ও সমুদ্র দূষণ, ভূমিকম্প ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
সুচনা বক্তব্যে আলমগীল কবির বলেন দেশে পরিবেশ রক্ষা বাপা ২০২৫ বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন সময় সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে সুবিভোগীরা পরিবেশ বিনষ্ট করছে। আমরা চাই না দেশের পরিবেশ নতুন করে বিপর্যয়ের মূখে পড়ুক। তাই আমরা পরিবেশ সংস্কার বিষয়ে এবছরের সম্মেলনের আয়োজন করেছি।
সম্মেলনের প্রথম দিনে ৯ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ৮:৩০ মি থেকে ৯:৩০ মি. রেজিষ্ট্রেশন। সকাল ৯:৩০ মি.সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।
৯ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ৯:৩০ মি. সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-এর উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।