ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২:২৭, ২৬ জুলাই ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পুলিশের সীমিত জনবল ও যানবাহনকে মাঠপর্যায়ের কাজে যুক্ত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ বিশেষ পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে শপথ নেওয়ার পর থেকে পুলিশি প্রহরায় চলাচল করা এসব মন্ত্রী এখন রাজধানীতে এসকর্ট ছাড়াই চলাচল করবেন। তবে দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় ছয়জন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার জন্য এ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এ সংখ্যাও আরও কমানো হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে গত সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীও নিজের নিরাপত্তা বহরের আকার ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। তার বহর থেকে পুলিশের দুটি প্রটোকল গাড়িও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে মন্ত্রীদের চলাচলের সময় সামনে থাকা পুলিশের নিরাপত্তা গাড়িকেই ‘এসকর্ট’ বা ‘প্রটেকশন গাড়ি’ বলা হয়। প্রতিটি এসকর্ট গাড়িতে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দায়িত্ব পালন করে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ১৮ মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার হওয়ায় প্রায় ৯০ পুলিশ সদস্য এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন।
এর আগে মন্ত্রীদের এসকর্টে প্রায় ১২০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও এখন এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ জনে। একই সঙ্গে এসকর্টে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা ২৫টি থেকে কমে সাতটিতে নেমে এসেছে। দায়িত্বমুক্ত জনবল ও যানবাহন পুলিশের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
এসকর্ট সুবিধা হারালেন যারা
এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী অ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের জন্য পুলিশের এসকর্ট সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।
তবে কোন নিরাপত্তা মূল্যায়ন বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই সাতজনকে এ সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকার বা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সাতজনের মধ্য থেকেও এসকর্ট কমানো হতে পারে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি পুলিশের যানবাহনের দীর্ঘদিনের সংকট এবং ভিআইপি প্রটোকলের বহর ছোট করার সরকারি নীতিও এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি রাজধানীর যানজট কমাতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলম আগামীর সময়কে বলেছেন, মন্ত্রীদের এসকর্ট কমানোর ফলে জ্বালানি ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে গাড়ি ও জনবলের ওপর চাপ হ্রাস পাবে। এতে রাজধানীতে নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রমে অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী মন্ত্রীরা আগের মতোই ব্যক্তিগত গানম্যান, সরকারি বাসভবনে হাউজ গার্ড এবং ঢাকার বাইরে সরকারি সফরের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন।