ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

৭ শ্রাবণ ১৪৩৩, ০৬ সফর ১৪৪৮

বেগম জিয়ার সঙ্গে অসদাচরণ, শাস্তির মুখে ৩ নারী পুলিশ কর্মকর্তা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০০:৩১, ২৩ জুলাই ২০২৬

বেগম জিয়ার সঙ্গে অসদাচরণ, শাস্তির মুখে ৩ নারী পুলিশ কর্মকর্তা

.

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় অসদাচরণের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের তিন নারী অতিরিক্ত ডিআইজি। তাদের মধ্যে একজন কর্মরত আছেন ডিএমপিতে, একজন সিআইডিতে এবং আরেকজন নৌপুলিশে। আজ-কালের মধ্যেই তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। 

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

বাধ্যতামূলক অবসরের সেই প্রস্তাবের একটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে। সেখানে রয়েছেন তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার।

নথিতে সবাইকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পেয়েছেন। এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়ার সময় হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিআইডিতে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা এবং নৌপুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম সম্পর্কে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে উচ্ছেদ করেন।’

জেসমিন সম্পর্কে নথিতে তাকে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরকারি নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রেবেকা সুলতানার বিষয়ে নথিতে বলা হয়েছে, তার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে যাচ্ছে। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝবেন, আমি ওনাকে (খালেদা জিয়া) গ্রেপ্তারের সময় ওখানে ছিলাম না। এখন পদোন্নতির সময় হয়েছে, তাই একটি চক্র এমন ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কর্মরত ফরিদা ইয়াসমিন সম্পর্কে নথিতে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের অবৈধ মামলার রায় ঘোষণার পর তার নিজ দায়িত্বে সাবেক ৩ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে গাড়িতে উঠিয়ে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি একই গাড়ির দ্বিতীয় সিটে অবস্থান করেন। এ বিষয়ে তৎকালীন ডিএমপির অফিসারদের কাছ থেকে বাহবা পান এবং সবাই তার প্রশংসা করেন।’

ফরিদা বর্তমানে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে কর্মরত আছেন। বক্তব্যের জন্য তার সরকারি নম্বরে কয়েকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তারা হলেন—ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন ও সানা শামীনুর রহমান।

এছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সাল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন এবং পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী ও উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানও বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় রয়েছেন।
 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন