ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, ১৮ সফর ১৪৪৮

হামের চিকিৎসা খরচ মেটাতে ঋণগ্রস্ত হচ্ছে পরিবারগুলো : জরিপ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২:১১, ৩ আগস্ট ২০২৬

হামের চিকিৎসা খরচ মেটাতে ঋণগ্রস্ত হচ্ছে পরিবারগুলো : জরিপ

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে কয়েক দশকের মধ্যে হামের সবচেয়ে মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের কারণে কয়েকশ’ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং এরফলে চিকিৎসার খরচ মেটাতে আক্রান্ত শিশুদের বা ব্যক্তিদের পরিবারগুলো আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে বা আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাবার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৮৪৪ জন শিশু মারা গেছে এবং ১ লাখ ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র মতে, হামে আক্রান্ত ১০টি পরিবারের মধ্যে ৯টি পরিবারই চিকিৎসা খরচ মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকায় অবস্থানরত আইএফআরসি-এর প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, ‘হামের এই জরুরি স্বাস্থ্য সংকটের প্রভাব কেবল হাসপাতালের দরজাতেই শেষ হয়ে যায় না; আক্রান্ত পরিবারগুলোকে প্রায়শই তীব্র আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়।’

বোকানেগ্রা আরও যোগ করেন, ‘জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থার সময়ে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা—উভয়ই অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।’

সংস্থাগুলো ১২টি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে শিশুদের চিকিৎসা করাতে আসা ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই জরিপ ও মূল্যায়ন পরিচালনা করে।

হাসপাতালের চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও, আনুষঙ্গিক খরচ দ্রুত বেড়ে যায়। জরিপ করা পরিবারগুলোর মধ্যে ৩৫ শতাংশের ওষুধের খরচ মেটাতে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন দেখা দেয় এবং ২২ শতাংশের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। আক্রান্ত পরিবারগুলোর বেশিরভাগই দরিদ্র এবং তারা অনানুষ্ঠানিক কাজের ওপর নির্ভরশীল, যাদের মাসিক আয় ৪৮ থেকে ১৬০ ডলারের মধ্যে (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজারের মধ্যে)।

জরিপ মূল্যায়নে দেখা গেছে, প্রাদুর্ভাবের শিকার পরিবারগুলো চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক খরচে গড়ে ১৩০ ডলারের বেশি (প্রায় ১৬ হাজার টাকা) ব্যয় করেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া হাজেরা খাতুন নামে এক নারী জানান, বাইরে থেকে ঢাকা শহরের একটি হাসপাতালে পৌঁছাতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াতেই তার প্রায় ২০০ ডলার (২৪ হাজার টাকার বেশি) খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা তো বিনামূল্যে মেলে, কিন্তু অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর সুযোগ সেখানে নেই।’

অনেক অভিভাবক এটাও জানিয়েছেন যে, অসুস্থ শিশুদের সেবাদানের জন্য দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান করতে গিয়ে তারা কাজ বা চাকরি হারিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব কবির এম. আশরাফ আলম বলেন, ‘এই মূল্যায়নে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, অনেক পরিবার কেবল স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থাই নয়, বরং তীব্র আর্থিক চাপের মুখেও পড়ছে।’

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্ত হলে এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এই রোগে মস্তিষ্কে প্রদাহ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে। রোগটি যেকোনো মানুষের হতে পারে, তবে শিশুদের মধ্যেই এটি বেশি দেখা যায়।

২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সময় ও পরে টিকাদান কর্মসূচিতে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তার ফলে বহু শিশু সুরক্ষাহীন রয়ে গেছে। তবে সম্প্রতি দেশজুড়ে এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ব্যাপক গণ-টিকাদান অভিযান শুরু করেছে।

  

আরও পড়ুন