ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০০:৪৪, ৬ আগস্ট ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
বাংলাদেশের যেখানেই জুলুম হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আবার মাদ্রাসাগুলো থেকে আবাবিল রাজপথে নেমে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে মামুনুল হক ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শুরুতে চোখ হারানো হবিগঞ্জের ছাত্র আলিফের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গিয়ে আলিফের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাকে সাহস দিতে গেলেও উল্টো আলিফের কাছ থেকেই নতুন করে সাহস নিয়ে ফিরেছেন।
মামুনুল হক বলেন, আলিফ তাকে বলেছিলেন, গলায় কাঁটা প্রথমে বিঁধলে সহজে বের করা যায়, কিন্তু সেটি গভীরে বসে গেলে অপসারণ করতে অনেক রক্তক্ষরণ হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের মানুষের ওপর গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। ফলে তা উৎখাতে বিপুল আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইলে শুরুতেই তা প্রতিরোধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী জালিমকে জুলুম থেকে বিরত রাখাই তাকে সাহায্য করার প্রকৃত উপায়। তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, তারা যেন অতীতের সহিংস ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির পথ থেকে ফিরে আসে। অন্যথায় জনগণ তার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
মামুনুল হক বলেন, অতীতে দেশের ছাত্ররাজনীতিতে আদর্শভিত্তিক প্রতিযোগিতা ছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্বের উত্থান হয়েছে, যারা মেধা ও আদর্শের রাজনীতিকে সামনে এনেছে। এই নতুন বাস্তবতায় শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও আধিপত্যের রাজনীতি চলতে পারে না।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজপথে নেমেছিল। তিনি দাবি করেন, অন্যায়-অবিচার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও একইভাবে তারা মাঠে নামবে।
খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, দেশের যেখানেই জুলুম-নিপীড়ন হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। এ সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর নাম উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজন হলে আবারও মাদ্রাসাগুলো থেকে ‘আবাবিল’ রাজপথে নেমে আসবে।
মামুনুল হক আরও বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁর দাবি, জনগণের সেই রায় বহু শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তাই সেই রায়ের প্রতি অবহেলা বা বিশ্বাসঘাতকতা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।