ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

২১ শ্রাবণ ১৪৩৩, ২০ সফর ১৪৪৮

তিন ইয়াবা কারবারিকে আটক করে পুলিশে দিল স্থানীয়রা

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি

প্রকাশ: ০১:৩৯, ৬ আগস্ট ২০২৬

তিন ইয়াবা কারবারিকে আটক করে পুলিশে দিল স্থানীয়রা

ছবি:বাংলার চোখ

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে তিন কথিত ইয়াবা কারবারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে নানিয়ারচর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— নানিয়ারচর কাউন্সিলপাড়ার মো. বাপ্পি, ইসলামপুর এলাকার মো. ওমর ফারুক এবং একই এলাকার নূর আলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় নানিয়ারচর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ০২, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৬। মামলা দায়েরের পর আটক তিনজনকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আটক তিনজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের কার্যক্রমের কারণে এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটছে এবং তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় যুব সমাজ উদ্যোগ নিয়ে তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

স্থানীয়রা আরও জানান, নানিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদকের উৎস শনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ বিষয়ে নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার পর আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।"

এদিকে, স্থানীয়দের ধারণ করা একটি ভিডিওতে  আটক ব্যক্তিদের একজন দাবি করেন যে, তিনি নানিয়ারচরের বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র ও যুব সংগঠনের কয়েকজন নেতার কাছে ইয়াবা পৌঁছে দিতেন। তবে ভিডিওতে করা ওই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে পুলিশও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে কোনো মামলা বা অভিযোগের তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নানিয়ারচর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগও অত্যন্ত জরুরি। তাদের বিশ্বাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে নানিয়ারচরকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব।

আরও পড়ুন