স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১:২৫, ৬ আগস্ট ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
কেপ ভার্দে, ক’দিন আগেও যে দেশটার নাম ছিল অনেকের কাছেই অজানা। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার খেলতে এসেই রূপকথার এক গল্প লিখেছে পুঁচকে এই দেশ। আর সেই রূপকথার গল্পের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন গোলকিপার ভোজিনিয়া। অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে রাতারাতি পুরো বিশ্বে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন এই গোলকিপার। তবে বিশ্বকাপ শেষ হলেও থেমে যায়নি ভোজিনিয়ার স্বপ্নযাত্রা। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেজ থেকে তিনি এখন যোগ দিয়েছেন চিলির সবচেয়ে সফল ফুটবল ক্লাব কোলো কোলোতে।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) চিলির শীর্ষ লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি করেন ভোজিনিয়া। চুক্তির পরদিনই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নতুন সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় ক্লাবটি। এর আগে রোববার সান্তিয়াগোতে পৌঁছালে বিমানবন্দরে উচ্ছ্বাসভরা অভ্যর্থনা জানান কোলো কোলোর সমর্থকেরা। নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে মাত্র দুই দিন পরই সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনেও যোগ দেন তিনি।
ভোজিনিয়ারের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কেটেছে তুলনামূলক ছোট ক্লাব ও নিম্নস্তরের লিগে। স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস এবং পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের বিভিন্ন দলে খেলেছেন তিনি। তার বিশ্বাস ছিল, ধারাবাহিক পরিশ্রম একদিন তাকে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ এনে দেবে।
অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। চিলির সবচেয়ে সফল ক্লাব, ৩৪টি লিগ শিরোপা ও ১৪টি কোপা চিলি জয়ী কোলো কোলোয় ডাক পেয়েছেন ভোজিনিয়া। নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তুলনামূলক ছোট লিগ ও কম আলোচিত ক্লাবে খেললেও নিজের সামর্থ্য নিয়ে কখনো সন্দেহ ছিল না।
‘সব সময় বিশ্বাস করেছি, আমি বড় ক্লাবের হয়ে খেলার যোগ্য। তাই কোলো কোলোর প্রস্তাব পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্তও ভাবতে হয়নি। প্রথম দিন থেকেই জানতাম, আমার গন্তব্য এখানেই। অন্য ক্লাব থেকেও প্রস্তাব ছিল, কিন্তু আমার প্রথম পছন্দ ছিল কোলো কোলো।’
‘বিশ্বকাপে খেলা নিঃসন্দেহে আমার ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, তবে সেটি এখন অতীত। এত সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি ক্লাবের অংশ হতে পারা আমার ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত।’
বিশ্বকাপের মঞ্চেই ভোজিনিয়ার নাম ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। গ্রুপ পর্বে স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক ড্রয়ে দলের প্রথম পয়েন্ট অর্জনে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এরপর শেষ ষোলোয় শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আবারও নজর কাড়েন।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার সেরা একাদশে জায়গা করে নেন ভোজিনিয়া। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞানীরাও একটি নতুন সামুদ্রিক শামুকের প্রজাতির নাম রেখেছেন ভোজিনিয়ার নামে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার। টুর্নামেন্টে আলো ছড়ানোর পর সেই সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে এখন পৌঁছেছে প্রায় তিন কোটিতে।
v