ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১:৫০, ৬ আগস্ট ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিম মিয়াকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিম মিয়া দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল।
২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সে সময় দলীয় মনোনয়ন না পেলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী তাঁকে সমর্থন দেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আমির হোসেন আমুসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক খোকন মল্লিকসহ অন্যান্য নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিম মিয়া। ওই সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনাকে অনেকেই তাঁর বিএনপিতে যোগদানের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এর তীব্র সমালোচনা করেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান বলেন, "বর্তমানে দলে নতুন করে কাউকে যোগদান করানোর কোনো সুযোগ নেই। বৃষ্টির কারণে কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌজন্যতার অংশ হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালে আমরা তা গ্রহণ করেছি। এর সঙ্গে যোগদানের কোনো সম্পর্ক নেই।"
এ ঘটনার পর কীর্ত্তিপাশা এলাকায় বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে প্রতিবাদ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়।