রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১:৪৬, ৬ আগস্ট ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
সারাদেশের পাশাপাশি নওগাঁর রাণীনগরে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কাঁচা সবজির সরবরাহ কমে গেছে। ফলে খুচরা ও পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেড়েছে আকাশছোঁয়া, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার আবাদপুকুর হাটসহ বিভিন্ন স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
কাঁচাবাজারের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির আগে যেসব সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৮০ টাকায়। বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, করলা ও টমেটো সহ প্রায় সব সবজির দামই এখন চড়া। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম। কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আর কিছুদিন আগে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিকোচ্ছে ৬০ টাকায়—অর্থাৎ ঝালের পাশাপাশি পেঁয়াজের ঝাঁজও সমান তালে বাড়ছে।
সবজি বিক্রেতারা জানান, অতিবৃষ্টিতে ক্ষেতের সবজি পচে নষ্ট হয়ে গেছে এবং জমিতে পানি জমে থাকায় নতুন সবজি তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে সবজি এনে বিক্রি করতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। মূলত বাজারে সরবরাহ সংকট ও বাড়তি পরিবহন খরচের কারণেই দাম বেড়েছে।
উপজেলার আবাদপুকুর বাজার সহ বিভিন্ন হাটে আসা ক্রেতারা জানান, সীমিত আয় দিয়ে এখন আর প্রয়োজনীয় সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে অনেকেই কেনাকাটার হিসাব কাটছাঁট করছেন এবং সবজি কেনার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছেন।
সাধারণ ক্রেতারা জানান বৃষ্টির অজুহাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটতে না পারে, সেদিকে স্থানীয় প্রশাসনের নজর দেওয়ার দাবি জানান ।
তবে ব্যবসায়ীদের মতে, আবহাওয়ার উন্নতি হয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম। আর তত দিন সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি থাকারই আশঙ্কার কথা জানান।