স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১:০১, ২৯ জুলাই ২০২৬
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতায় ফেরার পর একটা সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সুইজারল্যান্ড। কিন্তু গোলের ৫ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এমবোলো। এরপর আর ১০জন নিয়ে তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারেনি সুইসরা। সুইজারল্যান্ড ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ম্যাচের পর সুইসদের কোচ মুরাত ইয়াকিন এবং অধিনায়ক গ্রানিত জাকা রেফারির নেয়া এমবোলোর দ্বিতীয় কার্ডের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। বিশ্বকাপজুড়ে রেফারির নেয়া অন্যতম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছিল এটি।
ফিফার ফুটবল আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) জানিয়েছে, জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানো উচিত হয়নি।
ম্যাচে ১-১ সমতা থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়ার্ধের ৭২ মিনিটে এমবোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে দুই গোল করে ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
২৯ বছর বয়সী এমবোলো আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলে রেফারি জোয়াও পিনহেইরো প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু ভিএআর জানায়, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি। এরপর রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত বদলে এমবোলোকে ‘ডাইভ’ (সিমুলেশন) করার অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান, ফলে তিনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
তবে আইএফএবি মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক সার্কুলারে স্পষ্ট করেছে, ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে, কিন্তু কার্ড দেওয়ার মতো অপরাধ হয়েছে কি না, সেটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে না।
আইএফএবি বলেছে, 'যে হলুদ কার্ড দ্বিতীয় হলুদ নয়, সেটি কেবল কোন খেলোয়াড় অপরাধটি করেছেন তা শনাক্ত করার জন্যই পর্যালোচনা করা যাবে। অপরাধটি হয়েছে কি না, সেটি ভিএআর দেখে পরিবর্তন করা যাবে না।'
সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপে সিমুলেশন সংক্রান্ত ‘ভুল পরিচয়’ ধারা যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা ইতিবাচক সাড়া পেলেও ভিএআর প্রোটোকলের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন ম্যাচ শেষে এমবোলোর লাল কার্ডের নিয়মকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে মন্তব্য করেন। এই হারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় সুইসদের।
ইয়াকিন বলেন, 'এটি আজকের ম্যাচটাকেই নষ্ট করে দিয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে, কিন্তু এভাবে হারাটা খুবই কষ্টের।'
উল্লেখ্য, আগের আসরের শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়।