ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

১ ভাদ্র ১৪৩৩, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

কেবল ইংল্যান্ডই বাংলাদেশের আগে

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০১:৩৩, ১৭ আগস্ট ২০২৬

কেবল ইংল্যান্ডই বাংলাদেশের আগে

ছবি :সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলাটাই যেন অনেক কিছু। আর সেখানে জয় পাওয়াটা তো আরও বেশি কিছু। ডারউইনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই দলটাকেই টেনে হিঁচড়ে মাটিতে নামিয়ে আনলো বাংলাদেশ। তাদের দম্ভ চূর্ণ করে মাত্র চতুর্থ দিনেই ৯ উইকেটের জয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নামটা খোদাই করে রাখলেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এমন ইতিহাস গড়া জয়ে রেকর্ড বইয়েও পরিবর্তন এসেছে বেশ।

টেস্টে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম জয় পেয়েছে মাত্র একটি দল। অস্ট্রেলিয়ায় তাদেরকে দ্বিতীয় ম্যাচেই হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেটি ছিল ইতিহাসের দ্বিতীয় টেস্টও। আর বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পেলো মাত্র তৃতীয় টেস্টেই।

দক্ষিণ আফ্রিকাও তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জয় করেছিল। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সময় লেগেছিল পাঁচ টেস্ট। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সপ্তম ম্যাচে এবং ভারত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পেয়েছিল দ্বাদশ টেস্টে।

ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের বোলারদের নেওয়া উইকেটের ব্যবধান ছিল বেশ বড়। অথচ উইকেটসংখ্যায় এর চেয়েও বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও টেস্ট জয়ের নজির আছে মাত্র দুটি। ২০২৪ সালে ভারত (১,২৪৭) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১,১১১)—দুই দলই এমন ব্যবধান পেছনে ফেলেই হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে।
 
দেশের বাইরে বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এখন হাসান মাহমুদের। এত দিন এই রেকর্ড ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দখলে— ২০২১ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৮ রান দিয়ে ৯ উইকেট।
 
টেস্টে এক ম্যাচে বাংলাদেশের পেসারদের দ্বিতীয় সেরা বোলিংও এখন হাসান মাহমুদের। সবার ওপরে আছেন শাহাদাত হোসেন। ২০০৮ সালে মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তার বোলিং ফিগার ছিল ৯/৯৭। ডারউইনে হাসান মাহমুদের ম্যাচ ফিগার ৯/১১১।
 
অস্ট্রেলিয়ায় অভিষেক টেস্টেই কোনো সফরকারী বোলারের তৃতীয় সেরা ম্যাচ বোলিং এটি। এর আগে ১৯২৪ সালে ইংল্যান্ডের মরিস টেট এবং ১৯৯০ সালে মেলবোর্নে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম— দুজনেই অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের প্রথম টেস্টে ১১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। হাসান মাহমুদ নিলেন ৯টি।
 
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররা নিয়েছেন মোট ১৪ উইকেট, যা এক ম্যাচে বাংলাদেশের পেসারদের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ডে যৌথভাবে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবং ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষেও বাংলাদেশের পেসাররা নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট।
 
টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবার একই ম্যাচে ফিফটি ও ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়লেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এর মধ্যে দুবারই দেশের বাইরে। বাংলাদেশের আরেক অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও দেশের বাইরে দুবার একই কীর্তি গড়েছেন।
 
অধিনায়ক হিসেবে দেশের বাইরে তৃতীয় টেস্ট জিতলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে দুটি করে টেস্ট জয়ের রেকর্ড ছিল মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের। আর বাংলাদেশের হয়ে সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট জয়ের রেকর্ডও এখন শান্তর— ৯টি।

আরও পড়ুন