ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

১ ভাদ্র ১৪৩৩, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

আগামী দুই বছর আমাদের সাবধান থাকতে হবে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১:১৬, ১৭ আগস্ট ২০২৬

আগামী দুই বছর আমাদের সাবধান থাকতে হবে: অর্থমন্ত্রী

ফাইল ছবি

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে বর্তমান সরকার। এই চ্যালেঞ্জে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। এ অবস্থায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে সরকারকে। 

এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। তিনি বলেছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ছয় মাস কিংবা এক বছরে এর সমাধান হবে না। ন্যূনতম দুই বছর লাগবে।

আর এই দুই বছর সাবধান থাকা লাগবে বলেও মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে এই সময় লাগার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। ফলে, এর আগে সমস্যার সমাধান হবে না।

রোববার (১৬ আগসট) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। 

নীতি সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। সভায় বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতি এগোতে পারে না। তবে, সম্ভাব্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া যায়, আমরা দ্রুত সেসব নিচ্ছি। 

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। এখন সেটা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ হচ্ছে, কয়লা নিয়ে কাজ হচ্ছে। কোন ধরনের জ্বালানি কত পরিমাণ লাগবে, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি নীতি প্রকাশ করা হবে। এতে মানুষ জানতে পারবে, কী করতে হবে। আগামী দুই বছর আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়ন ও নীতি বিভাগ আলাদা করা হবে। আমরা রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট হারে করারোপ করা হবে। সেটার জন্য তথ্যভান্ডার তৈরি হচ্ছে।

এ সময় শেয়ারবাজার নিয়ে তিনি বলেন, শেয়ারবাজার নিয়ে সতর্কসংকেত পাচ্ছিলাম। এরপর সেখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমাদের আরও বেশি তালিকাভুক্ত কোম্পানি দরকার।

এরপর ব্যাংক খাত নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতে মারাত্মক মূলধনের ঘাটতি আছে। এটা এত বেশি যে সরকারের পক্ষে পূরণ করার মতো নয়। খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। তাই অর্থায়নের বিকল্প উৎস দরকার।

সভায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অর্থমন্ত্রী। সভাপতির বক্তব্যে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, শুধু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা নয়, আমরা সমাধানের অংশ হতে চাই। তাই ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস তৈরিতে এই আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন আরও আয়োজন করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন