আলমগীর মানিক, রাঙামাটি
প্রকাশ: ০২:২৭, ৩১ জুলাই ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
রাঙামাটি শহরে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে পরিচালিত পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ১৪টি মামলার পলাতক আসামি কাজী আশরাফুল আজম ওরফে দিপুসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিপুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা, এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ছিল।
জানা গেছে, বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ও বিকেলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর কাছে পৃথকভাবে স্মারকলিপি দেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। স্মারকলিপিতে তারা অভিযোগ করেন, দিপুর মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার বহু কিশোর ও তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দিপুর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, দিপুর মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে তার স্বজনরা, শ্যালক ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য এলাকাবাসীকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকি প্রকাশ্যে "খুন করে ফেলা হবে" বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এসব ঘটনায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল বলেও তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিপুর বাসায় প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা চললেও ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাননি। তবে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পর পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম তাৎক্ষণিকভাবে দিপুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। একপর্যায়ে বনরূপা এলাকা থেকে ১৪টি মামলার পলাতক আসামি কাজী আশরাফুল আজম ওরফে দিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে দিপুর পাশাপাশি মো. কামরুল হাসান (৪০), মো. শরীফ (২১), আরিফুল্লাহ আসিফ (২৪), আরিফ (২৭), রয়েল বড়ুয়া (৩২), শামসুল আলম (৪০) এবং মো. ফয়সাল মান্নান আরিফ (২৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মো. ফয়সাল মান্নান আরিফকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপরাধ দমন ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে অভিযান চলবে। পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।