ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩, ১৪ সফর ১৪৪৮

রাঙামাটিতে বিজিবির অভিযান

বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ভারতীয় সিগারেট জব্দ

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি

প্রকাশ: ০১:৩৩, ৩১ জুলাই ২০২৬

বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ভারতীয় সিগারেট জব্দ

ছবি:বাংলার চোখ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১০ কার্টুন ভারতীয় পেট্রোন সিগারেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে একটি ব্যাগ ফেলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায় দুই সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার মারিশ্যা মাঝিপাড়া সীমান্ত সড়কের ১৬ কিলোমিটার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের একটি বিশেষ টহল দল।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অস্ত্র পাচারকারীদের গতিবিধির ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (পিএসসি) এবং সহকারী পরিচালক (এডি) হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল কৌশলগত অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে সীমান্ত এলাকায় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত একটি কালো রঙের ব্যাগ ফেলে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ব্যাগের ভেতর থেকে একটি ৭.৬২ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের সাত রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১০ কার্টুন ভারতীয় পেট্রোন সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (পিএসসি) অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক এবং সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের ফলেই এ ধরনের সাফল্য অর্জিত হচ্ছে। সীমান্তকে অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়দের মতে, মারিশ্যা সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র বহনের রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে অপরাধচক্র। এ কারণে সীমান্তে বিজিবির নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার হওয়ায় এসব চক্রের কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জব্দকৃত চোরাচালানি পণ্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন