ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

২ মাঘ ১৪৩২, ২৭ রজব ১৪৪৭

বিসিবির অবস্থান অপরিবর্তিত,আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩:৫০, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

বিসিবির অবস্থান অপরিবর্তিত,আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত

.

ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে যেতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত দুই দফায় আইসিসির কাছে জানানো হয়েছে। তবে আইসিসি বাংলাদেশকে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা কঠিন এবং ভারতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত শঙ্কা অতিরিক্ত নয় বলে বোঝানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

দুপুরে ভার্চুয়াল ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিসিবি তাদের অনড় অবস্থান পুনরায় ঘোষণা করে। তারা স্পষ্ট করে জানায়, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত, যার কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই। পাশাপাশি, বিসিবি অনুরোধ করেছে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের নির্ধারিত ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া হোক।

আইসিসি টুর্নামেন্টের সূচি ইতিমধ্যেই ঘোষণার পর বিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করলেও, বিসিবির অবস্থান অপরিবর্তিত। দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে, তবে বৈঠকে আইসিসি বিসিবির নিরাপত্তা বিষয়ক বার্তা প্রকাশ্যে আসায় অসন্তোষও প্রকাশ করেছে।


বৈঠকে বিসিবির পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, আইসিসির নিজস্ব ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’-এ মোস্তাফিজুর রহমানসহ দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইসিসি কিভাবে দলকে ভারতে পাঠানোর কথা বলছে? আইসিসি জানায়, ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ‘লো মডারেট’ বা ‘নিম্ন মাঝারি’ পর্যায়ের, যা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে সামলানো সম্ভব।

বিসিবি প্রশ্ন করে, শুধু ক্রিকেটার নয়, বোর্ড কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ পুরো দল এবং সমর্থকদের নিরাপত্তা কে নিশ্চয়তা দেবে? বিসিবির মতে, ভারতের উগ্রপন্থিদের দাবির প্রভাবে সেখানে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নেই। আইসিসি উদাহরণ হিসেবে বলেন, বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ বর্তমানে ভারতে নিরাপদে আম্পায়ারিং করছেন। কিন্তু বিসিবি জবাবে জানায়, একজনের নিরাপত্তা এবং পুরো দলের নিরাপত্তা দেয়া সমান নয়।

বিসিবির প্রতিনিধিদলে ছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান নাজমূল আবেদীন এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। আইসিসির পক্ষে নেতৃত্ব দেন সিইও সংযোগ গুপ্তা, নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি, তবে দুই পক্ষ আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
 

আরও পড়ুন