স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:৫৭, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
.
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা এই ম্যাচটি বর্জনের ঘোষণার পর থেকে আইসিসি আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এবং পরিস্থিতি মসৃণ করতে নেপথ্য কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচের প্রায় ১৫ দিন আগে এই সিদ্ধান্ত জানানোয় আইসিসির কাছে বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করার সময় রয়েছে। পাকিস্তানের যেকোনো আপত্তি বা উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে কয়েকটি দেশের ক্রিকেট বোর্ড আইসিসিকে সহায়তা করছে।
পাকিস্তান এই ম্যাচ বর্জনের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি, তবে অতীতে নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণে বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জনের নজির ছিল। ১৯৯৬ ও ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে কয়েকটি দেশের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনা ছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ২০১৮ সালের একটি আইসিসি মামলার প্রভাব থাকতে পারে, যেখানে ভারতের বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল। ওই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৪ সালে পাকিস্তান ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন না হওয়ায়।
আইসিসি অবশ্য পিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছে, সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় ‘পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে বের করতে হবে। আইসিসির বক্তব্য, নির্বাচিতভাবে কোনো দল বিশ্ব টুর্নামেন্ট থেকে বিরত থাকা ক্রীড়াসুলভ সততা ও ন্যায্যতার পরিপন্থী।
অন্যদিকে, পাকিস্তান দল মাঠে না নামলেও ভারতীয় দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কলম্বোতে উপস্থিত থাকবে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, যদি পাকিস্তান দল না নামলে ভারত পয়েন্ট পাবে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ হিসেবে পরিচিত। এর বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ ও টিকিট বিক্রির মাধ্যমে আসে। তাই এই ম্যাচ বর্জনের ফলে আইসিসির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইসিসি এখন পরিস্থিতি মসৃণ করার জন্য তৎপর, যাতে বিশ্বকাপের সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করা যায়।