ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫:০০, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের অজুহাতে গ্রাহকের পকেট থেকে কেটে নেয়া হচ্ছে বাড়তি আড়াই হাজার কোটি টাকা। নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৭০০ টাকার বেশি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে ১২ কেজি এলপিজি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা বেশি। আর ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের জন্য বাড়তি নেয়া হচ্ছে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত।
অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি। তারা জানান, সিলিন্ডারও ঠিকমতো পাচ্ছেন না। এখন পুরোটাই লস। কারণ গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, বাজারে থাকা সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের মধ্যে বর্তমানে মাসে দুইবার রিফিল হচ্ছে সোয়া কোটি সিলিন্ডার। সে হিসেবে প্রতি সিলিন্ডারে এক হাজার টাকা বাড়তি নেয়া হলেও মাসে গ্রাহকের পকেট থেকে লুটে নেয়া হচ্ছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।
সংকটকে অজুহাত করে গ্রাহকের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পেছনে সরকারের ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম. শামসুল আলম বলেন, এখন শুধু এলপিজি বাজার না, এলপিজি ব্যবসায়ীরা সরকারকেই নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও। এটা কি ভয়াবহ পরিস্থিতি না? ভোক্তা অধিদফতর কী করছে? এমন অবস্থায় রাষ্ট্র কোথায়? কোনো সভ্য সমাজ কি এমন কিছু অনুমোদন করতে পারে?
এলপি গ্যাস নিয়ে চলমান নজিরবিহীন নৈরাজ্যের মাঝেও সব পক্ষ নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবুও নিরুপায় গ্রাহকরা ভোগান্তিতে, কারণ দিনশেষে বাড়তি দামের বোঝা তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অতি প্রয়োজনীয় এই জ্বালানি পণ্যের আমদানি স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কড়া নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।