মো: মুজিবুর রহমান,ঠাকুরগাঁও থেকে
প্রকাশ: ১৬:১১, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
এক সময় গ্রাম বাংলার কৃষির প্রধান ভরসা ছিল গরু ও লাঙল দিয়ে হাল চাষ। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁও থেকে সেই ঐতিহ্যবাহী চাষ পদ্ধতি এখন প্রায় বিলুপ্ত প্রায়।
ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকের বক্তব্যে উঠে আসে এই লাঙ্গল দিয়ে চাষের লক্ষ্যমাত্রা জমির গভীর অংশ আলগা হয়ে সেই সাথে গরুর পায়ে কাদা তৈরি এবং গোবর পড়ে জমির উর্বরতা বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ব্যবহারে অল্প সময়ে জমি চাষ সম্ভব হওয়ায় কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী হাল চাষ ছেড়েই দিয়েছে।
কৃষক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে উঠলো এক সময় কাকডাকা ভোরে গরু, লাঙল ও জোয়াল কাঁধে নিয়ে আমরা মাঠে যেতাম এমনকি দল বেঁধে আমরা একজন আরেকজনের জমি চাষ দেওয়ায় মেতে উঠতাম কিন্তু আজ বিলীন হয়ে গেছে আমাদের সেই গরুর হাল । কালের পরিবর্তে আজ আধুনিকতার ছোঁয়ায় আধুনিক যন্ত্রে আমাদের জমি চাষ করা হচ্ছে। এতে হালচাষ নির্ভর অনেক কৃষক গুরু লাঙ্গল দিয়ে হাল চাষের পেশাটি থেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছে বাধ্য হয়েছে অন্য পেশায় যেতে ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশপর গ্রামের কৃষক মমতাজ আলী ও নজরুল ইসলাম বলেন, শৈশবে হাল চাষ করেই বড় হয়েছি। তখন বাড়িতে কয়েক জোড়া বলদ, কাঠের লাঙল আর বাঁশের জোয়াল ছিল। এখন সেই দৃশ্য আর নেই।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ নাসিরুল ইসলাম বলেন, গরু ও লাঙল ছিল পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতি। তবে আধুনিক প্রযুক্তিতে কম সময়ে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষিতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আসবে।আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার গরু দিয়ে হাল চাষের বহু বছরের চিরচেনা ঐতিহ্য।