আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২:১৫, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শহরটি থেকে মোট ৮০৮ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা পিটিআই।
নিখোঁজদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের রহস্য এবং অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লির এই নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
দিল্লি পুলিশের সরবরাহ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম ১৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৫৪ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু। নিখোঁজ ১৯১ জন অপ্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১৪৬ জনই মেয়ে, যাদের বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
এছাড়া ৬১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নিখোঁজের মধ্যে ৩৬৩ জন নারী এবং ২৫২ জন পুরুষ রয়েছেন। পুলিশ এ পর্যন্ত ২৩৫ জনের খোঁজ পেলেও এখনও ৫৭২ জন মানুষের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
দিল্লি পুলিশ অবশ্য এই পরিস্থিতির ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ মানুষের বিপরীতে গড়ে যে পরিমাণ মানুষ নিখোঁজ হয়, দিল্লির হার তার চেয়ে অনেক কম। পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, অনেক সময় সন্তানদের বাড়ি ফিরতে দেরি হলে বা কিছুক্ষণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা দ্রুত নিখোঁজ ডায়েরি করেন, যা সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ২ হাজার ৪২ জন নিখোঁজ হলেও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ১ হাজার ৭৭৭ জনে নেমে এসেছে। গত বছর মোট ২৪ হাজার ৫০৮ জন নিখোঁজ হলেও পুলিশ ১৫ হাজার ৪২১ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বর্তমান প্রশাসনকে তুলোধুনো করেছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক নয় বরং রীতিমতো আতঙ্কের বলে অভিহিত করেন।
বিজেপির শাসনামলে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন এখন ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার এই ক্রমবর্ধমান হারের পেছনে কোনো মানবপাচারকারী চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হচ্ছে।
সূত্র: পিটিআই