আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:৩৭, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। ছবি: সংগৃহীতযুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সতর্কবার্তা দেয়ার পর, কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানের বৃহত্তম বাহিনী মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-এর প্রায় ৫ হাজার নাবিকের সামনে রয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত এক সমস্যা।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড গত বছরের জুন মাস থেকে সমুদ্রে রয়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো এই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে সেটির টয়লেট বন্ধ থাকা এবং পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যাগুলোর মতো নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
গেল জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল জেরাল্ড আর. ফোর্ড-এর।
তবে অভিযানের পরই ক্রুরা জানতে পারেন যে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জন্য তাদের মোতায়েনের সময়কাল বাড়ানো হবে এবং এখন তারা অন্য একটি ক্যারিয়ারে যোগদানের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছেন।
অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, সাধারণত পিসটাইমের সময়কালে একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার মোতায়েন স্থায়ী হয় ৬ মাস। কিন্তু ফোর্ডের নাবিকরা ৮ মাস ধরে সমুদ্রে আছেন এবং এই কর্মকাল ১১ মাস পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
বলা হচ্ছে, ৮ মাস সমুদ্রে কাটানোর ফলে জাহাজের ওপরই খারাপ প্রভাব পড়ে। রক্ষণাবেক্ষণ এবং আপগ্রেড স্থগিত থাকায় সরঞ্জামগুলোও নষ্ট হয়ে যায়।
সংবাদমাধ্যম এনপিআর জানুয়ারিতে রিপোর্ট করেছিল যে, যুদ্ধজাহাজটির প্লাম্বিং সিস্টেম আরও খারাপ হচ্ছে। যে ক্যারিয়ারটি তৈরি করতে ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, তার টয়লেটগুলোই অকার্যকর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যেহেতু এটি একটি ভ্যাকুয়াম সিস্টেম, তাই এক জায়গায় সমস্যা হলে জাহাজের সেই অংশের সমস্ত টয়লেটের শোষণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। যার ফলে রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের পক্ষে সমস্যাটি আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
জাহাজে থাকা একজন নাবিক জার্নালকে বলেছেন, ‘ক্রু সদস্যরা বিষয়গুলো নিয়ে রাগান্বিত এবং বিরক্ত। মোতায়েনের সময়কাল শেষ হওয়ার সাথে সাথে তারা নৌবাহিনী ছেড়ে চলে যেতে চান।’
সূত্র: এনডিটিভি