ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩:২৮, ১৩ মার্চ ২০২৬
ছবি :সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় দাঁড়ানো নিয়ে চেতনাবাজির রাজনীতি শুরু হয়েছে। আওয়ামী দুঃশাসনের সহযোগী সাংবাদিককুল মেজর হাফিজের মতো মুক্তিযোদ্ধা কেন এই শোক প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এ জন্য দুঃখের সাগরে ভেসে যাচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যখন এই সংসদে পাকিস্তানের চর বলে গালি দেয়া হতো তখন এদের চেতনার দণ্ড উত্থিত হতো না। একজন সেক্টর কমান্ডারের স্ত্রী ও চার বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশ্লীল গালাগালি করা হতো- তখন এদের চেতনার হুশ ছিলো না। ৫ আগস্টের পর এদের অনেকে গর্তে ছিলো। নির্বাচনের পর হঠাৎ করে চেতনার দণ্ড নিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে গেছে।
মাওলানা নিজামী, মাওলানা সাঈদী ও আলী আহসান মুজাহিদের নাম প্রস্তাব করেছেন সংসদে সরকার দলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। প্রধানমন্ত্রীর একেবারে পেছনের আসনটি তার। প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে এই নামগুলো তিনি এই প্রস্তাব করেছেন- তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। কারণ এরা ছিলো সরকারের মন্ত্রী ও একাধিক সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এটাই সংসদের রীতি।
বিএনপি রাজনৈতিকভাবে মনে করে এদের যে প্রক্রিয়ায় বিচার হয়েছে তা ছিলো ন্যায়বিচার থেকে বহুদুরে। বেগম খালেদা জিয়া এ নিয়ে বহু সভা সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন। বিএনপি তার অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে মাত্র। বিচারের নামে এদের কে যে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে তা স্কাইপ কেলেংকারি থেকে স্পষ্ট। এই বিচারের নামে হত্যকাণ্ডে ওপর “ মৃত্যুদণ্ড “ নামে প্রথম বই লিখেছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিক রেহমান। তিনি অন্তত জামায়াতি ঘরানার কেউ নন। আওয়ামী দুর্বৃত্তপনার সহযোগী এই সাংবাদিকরা এখন অবশ্য বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠনে চাকরি করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফলাচ্ছেন; কিন্তু শফিক রেহমানের বই পড়ার সময় অবশ্য তাদের নেই।
জাতীয় সঙ্গীত বাজার বিষয়ে এরা স্বভাবসুলভ মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। গতকাল সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাউন্ড সমস্যার কারণে ২০ মিনিটের মতো বিরতি দেয়া হয়েছিলো। পরে অধিবেশন শুরু হলেও সাউন্ড সিস্টেম পুরোপুরি ঠিক হয়নি। এমনকি স্পিকার বিকল্প একটি মাইক্রোফোন ব্যবহার করেন। সাউন্ড সিস্টেম কাজ না করায়- প্রধানমন্ত্রী নিজে সারাক্ষণ হেডফোন কানের সাথে লাগিয়ে বক্তব্য শুনেছেন। স্পিকার নিজে বলেছেন, যে সংসদ সদস্যরা নিজের মাইকে বক্তব্য রাখতে পারবেন না, তারা যেনো পাশে বসা যাদের মাইকে শোনা যায় সেখান থেকে বক্তব্য রাখেন।
প্রেসিডেন্ট চুপ্পু সংসদ স্পিকারের পডিয়ামে ঢোকার সাথে সাথে বিরোধী দলের সদস্যরা শ্লোগান দিতে থাকেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত বাজানো শুরু হলে সাংবাদিক গ্যালারি থেকেও তা শোনা যায়নি। কিন্তু টেলিভিশন স্ক্রিনে জাতীয় পতাকা শোভা পেলে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সবই দাঁড়িয়ে যান। এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ কানে হেড ফোন ছিলো - তিনি দাঁড়িয়ে যান এবং সবাইকে দাঁড়াতে বলেন। এমনকি সে সময় সাংবাদিক গ্যালারিতে থাকা সাংবাদিকরা দাঁড়ান। কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় দাঁড়াতে চায়নি বা দাঁড়াননি - এমন ঘটনাও ঘটেনি। কিন্তু যথারীতি চেতনার ত্যানা প্যাচানো চলছে। এই হলো বাংলাদেশের হাম্বাদিকতা।