ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

১৭ ফাল্গুন ১৪৩২, ১২ রমজান ১৪৪৭

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১

প্র্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬:৪৫, ১ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১

ছবি :সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পূর্বশত্রুতার জেরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাফিজুর রহমান নামের জামায়াতের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জামায়াতের ইউনিয়ন আমির ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদরাসা গেটের সামনে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এদিকে নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে জীবননগর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এসময় রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। 

নিহত হাফিজুর রহমান (৪৬) সুটিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে।

তিনি জীবননগর শহরের একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী ছিলেন। আহতরা হলেন, বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমান, জামায়াত কর্মী মাহফুজ হোসেন (২৫) এবং হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান (৩৬) তার বাবা জসিম উদ্দিন (৬৫) ও তৌফিক (৪০)।
 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব শত্রুতার জেরে বাঁকা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মেহেদী হাসান জামায়াত সমর্থকদের মারার উদ্দেশে হাসুয়া নিয়ে উপজেলার সুটিয়া গ্রামে যায়। সুটিয়া গ্রামের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে মেহেদী হাসানকে মারধর করে সুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।

এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম হাসাদহ বাজারে এলে ওই ঘটনার জের ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান, জসিম উদ্দিন, ইমরান ও বাপ্পা মিলে তাকে কিলঘুষি মেরে আহত করে। এই ঘটনায় আহত খায়রুল ইসলাম জামায়াতের দলীয় লোকজন নিয়ে ইফতারের পর মেহেদী হাসানের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কথা কাটাকাটির শুরু হয়। 

একপর্যায়ে জামায়াত ইসলামী এবং বিএনপির দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ৬ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে, ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর রেফার করা হয়। বাকি দুইজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন বলেন, ‘বিএনপির কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পর মারা যায় হাফিজুর রহমান। নিহত হাফিজুর রহমানের শরীরে রড দিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই।’ 

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি প্রত্যাশা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আর প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয়, তবে আমরাই অপরাধীদের পুলিশের হাতে তুলে দিব।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদির বাড়িতে আগে জামায়াতের ২০ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী হামলা চালায়। এতে তার বাবা ও ভাইয়েরা রক্তাক্ত জখম হয়। এ ঘটনায় জনগণের হাতে গণপিটুনি শিকার হয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এতে জামায়াতের একজন মারা যায়। এর দায়ভার পুরোপুরি জামায়াতের। বিএনপি এ দায়ভার বহন করে না। তাদের ঔদ্ধত্যপূণ আচরণের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।’

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জীবননগর হাসাদাহ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সালাম ও জসিম নামের দুজনকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো মামলা দায়ের হয়নি।

এদিকে, ‌আজ রবিবার দুপুর ৩টায় নিজ গ্রামে হাফিজুর রহমানকে দাফন করা হয়। সংঘর্ষে আহত তার ছোটভাই বাকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান এখনো শঙ্কামুক্ত নন।


 
 

আরও পড়ুন